মানবমুক্তির লড়াইয়ের অনন্ত প্রেরণার উৎস কমরেড লেনিন

সর্বহারার মহান নেতা কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের ১৫২তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

২২ এপ্রিল লেনিনের জন্মদিনে সকালে পার্টি কার্যালয়ে লেনিনের আবক্ষ ভাস্কর্য্যে পুস্প স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে বিকাল ৪টায় বিকেলে মুক্তি ভবনস্থ প্রগতি সম্মেলন কক্ষে লেনিন দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড এ. এন. রাশেদার সভাপতিত্বে ও কমরেড এম এম আকাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ‘শ্রেণি ও শ্রেণিসংগ্রাম’ শীর্ষক প্রবন্ধ উত্থাপন করেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল। প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মো: কিবরিয়া। এছাড়াও সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আলোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড এ. এন. রাশেদা বলেন, সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য কমরেড লেনিন যে শিক্ষা রেখে গেছেন, তা চিরকাল অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রমিকশ্রেণীর চেতনায় ও সংগ্রামে তিনি চিরভাস্বর, পথপ্রদর্শক। মানবমুক্তির লড়াইয়ে অনন্ত প্রেরণার উৎস কমরেড লেনিন।

আলোচনা সভায় কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দুনিয়াকে বদলে দেওয়ার অগ্রসেনানী হলেন কমরেড লেনিন। মার্কস-এঙ্গেলস-এর পথ ধরেই লেনিন অগ্রসর হয়েছেন। মার্কসবাদের বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নিজে তত্ত্ব নির্মাণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে। আজও সারা দুনিয়ার শোষিত, বঞ্চিত, নিষ্পেষিত মানুষের কাছে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব উজ্জ্বলতম প্রেরণা এবং দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

কমরেড লেনিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কমরেড এম এম আকাশ বলেন, কমরেড লেনিনের জন্মদিন গোটা বিশ্বে শোষণমুক্তির সংগ্রামের যোদ্ধাদের নবপ্রেরণায় উজ্জীবিত করে। পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে লেনিনের প্রাসঙ্গিকতা বেড়েই চলেছে। যে কোনো সংকটে আমাদের ছুটে যেতে হয় কমরেড লেনিনের সংগে পরামর্শ করার জন্য।

লিখিত প্রবন্ধে কমরেড রুবেল বলেন, ‘মানুষের উপর মানুষের শোসনের অবসান ঘটিয়ে মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ গঠন, অর্থাৎ সাম্যবাদ বা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠাই শ্রমিক শ্রেণির ঐতিহাসিক মিশন। কমিউনিস্ট পার্টির কর্তব্য হচ্ছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক-ভাবাদর্শিক সকল ফ্রন্টে বহুমুখী শ্রেণিসংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও অবশেষে সাম্যবাদী বিপ্লব সম্পন্ন করা। এটাই কমিউনিস্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির জন্য লেনিন দিবসের শিক্ষা।’

প্রবন্ধের উপর আলোচনায় কমরেড মো. কিবরিয়া মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে মার্কস-এঙ্গেলস-লেনিনকে আরো অনুশীলন এবং তাঁর বিপ্লবী পথ অনুসরণ করতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়াও উন্মুক্ত আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড লাকী আক্তার, সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের নেতা কমরেড শংকর আচার্য্য, সিপিবি মুন্সিগঞ্জ জেলার নেতা কমরেড শ. ম. কামাল।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কমরেড ডা. ফজলুর রহমান, কমরেড জলি তালুকদার, কমরেড আনোয়ার হোসেন রেজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.