মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধে জাপানের প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশের জলবায়ু কর্মীরা মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশের জীবাশ্ম জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ বন্ধে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পৃথিবীর সাতটি ধনী দেশের ফোরাম জি-৭ -এর শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে তারা এ দাবি জানান।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) যৌথভাবে মানববন্ধন করে এই আহ্বান জানায়।

মানববন্ধনে জলবায়ুকর্মীরা মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১ম পর্যায়) নির্মাণ স্থগিত করে, সেখানে তরল হাইড্রোজেনের মতো কম দূষণকারী জ্বালানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাতিল করে সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া, মাতারবাড়ির স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এলাকার পরিবেশ দূষণের জন্য স্থানীয় জনগণকে ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিল এবং সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে সংগঠন দুটির পক্ষে বিবৃতি দেওয়া হয়।

তারা জানান, জি-সেভেনের সাত ধনী রাষ্ট্র কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে আর কোনও ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জি-সেভেনের এই যৌথ সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে জাপান বাংলাদেশের কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস আমাদের ফসল নষ্ট, মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও পরিবেশ ধ্বংস করবে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ফাঁদে পড়বে বাংলাদেশ।’

তারা পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২১০০ সাল নাগাদ মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি থামাতে হলে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনের সবথেকে বড় কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। এই সময়সীমার মধ্যে শূন্য নির্গমন নিশ্চিত করার জন্য আমাদের হাতে আর সময় নেই। তাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সুপারিশ অনুসারে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.