মসজিদে এসি বিস্ফোরণ: মৃত্যু বেড়ে ১৮

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় রাত ৮টা পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল নাগাদ ১২ জনের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে। বাকিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ১১ জন মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে জুয়েল নামে শিশুটির দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানান বার্ন ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হুসেইন ইমাম।সকাল ১১টার দিকে মারা যান রাসেল নামে একজন।

ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, দুপুরে আরও ২ জন মারা যায়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪ জন হল।

এরপর বিকালে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর জানা যায় বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে, যাতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।

রাত ৮টার দিকে মো. বাহারউদ্দীন (৫৫) নামে আরও ১ জনের মৃত্যুতে মৃতের সংখ্যা বেড় ১৮ জন হয়।

নিহতদের মধ্যে জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১) দুই ভাই। তাদের বাসা নারায়ণগঞ্জের তল্লায়। সাব্বির বিএ পাস করেছেন। জোবায়ের তোলারাম ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

এছাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মারা যান ছেলে জুনায়েদ (১৬)। দুদিন আগে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে বাবার কাছে এসেছিলেন জুনায়েদ।

মসজিদটির ইমাম কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে আব্দুল মালেকও মৃতদের মধ্যে রয়েছেন।

মৃত অন্যরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জুলহাস ফরাজির ছেলে জুয়েল (৭) , পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে গার্মেন্টস কর্মী মো. রাশেদ (৩০), নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালি গ্রামের মো. বেলায়েতের ছেলে জামাল আবেদিন (৪০), গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ নিউ খানপুর ব্যাংক কলোরি কলেজ শিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মাইনুউদ্দিন (১২), ফতুল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী নয়ন (২৭), নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আব্দুল খালেকের ছেলে বাহার উদ্দিন (৫৫) এবং ফতুল্লার তল্লার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০)।

ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, “যারা ভর্তি আছেন, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলা যায়।”