“মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারকে অবৈধ বলা রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়”-বাম জোট

“ভোটারবিহীন বা মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারকে অবৈধ বলা বা তার পদত্যাগ দাবি করা রাষ্ট্রের বিরোধিতা নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধিতা এক নয়। জনগণের টাকায় যাদের বেতন হয়, জনগণ যাদের নির্বাচিত করে, তাদের সমালোচনা করার অধিকার জনগণের রয়েছে। এটি নাগরিক অধিকার”।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল (৯ মার্চ) মঙ্গলবার বিকাল ৪.৩০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশব্যাপি বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, লেখক মুশতাক আহমেদ হত্যার বিচার, মুশতাক হত্যাকান্ডের প্রতিবাদকারী সকল গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে দেশব্যাপি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

কেন্দ্রীয় এ বিক্ষভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন, কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আ ক ম জহিরুল ইসলাম, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, ইউসিএলবি’র কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক।

“লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তাকে স্বাধীন মতপ্রকাশের অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নয় মাস কারান্তরীণ রাখা হয়। ছয়বার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তাকে হত্যার দায় ক্ষমতাসীন সরকারকে নিতে হবে”- বলে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “সরকার একাধিক কমিটি করেছে। সেইসব কমিটির রিপোর্টে মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক বলা হয়েছে। দেশের মানুষের কাছে এ রিপোর্ট গ্রহনযোগ্য নয়। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে”।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে খুলনার শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনসহ মুশতাক হত্যাকান্ডের প্রতিবাদকারী গ্রেপ্তারকৃত সকলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। তারা গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এছাড়াও অবিলম্বে বাক, ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্বকারী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মত কালো আইন বাতিলের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ গণআন্দোলন গড়ে তুলে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণবিরোধী সরকারকে পরাভুত করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদেও নেতৃবৃন্দ বলেন, “জনজীবনকে বিপর্যস্ত। এ সরকার ভাত-ভোটের নিশ্চয়তা দেয়ার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসে গত বার বছরে ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়িয়েছে। দশ টাকায় যে চাল জনগণকে দেয়ার কথা বলেছিল সেই চালের কেজি এখন পঞ্চাশ টাকা। সরকার বাজার সিন্ডিকেটের প্রশ্রয়দাতা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মন্ত্রীসভাও ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টনে এসে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.