ভোট ডাকাতির ৩ বছর পূর্তিতে বাম জোটের কালো পতাকা মিছিল

ভোট ডাকাতির ৩ বছর পূর্তিতে দেশব্যাপী ‘কালো দিবস’ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সমাবেশ ও কালো পতাকাসহ বিক্ষোভ মিছিল পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সমাবেশে বাম নেতৃবৃন্দ অবৈধ ভোট ডাকাত সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আজ (৩০ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিল করে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক, সাজ্জাদ জহির চন্দন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মানস নন্দী, মোশরেফা মিশু, বাচ্চু ভূইয়া, হামিদুল হক ও বিধান রায়। সমাবেশ পরিচালনা করেন আকবর খান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩ বছর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলা-পুলিশ ও দলীয় গুন্ডাদের দিয়ে দিনের ভোট রাতে সীল মেরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতিও তাদের কোন দায়বোধ নাই। ফলে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার দেশে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাট কায়েম করেছে। চাল, ডালসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন দিশেহারা। সিন্ডিকেটের কাছে জনগণ জিম্মি। গুম, খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে। নিবাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতায় না থেকে নির্বাচন করে জয় লাভের কোন সম্ভাবনা থাকে না বলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে শাসকদের এতো ভয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং চলমান ইউপি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকারের অধিনে কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হলো অথচ দেশে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন গঠনে আজও কোন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। সাংবিধানিক সকল সংস্থারও কোন আইনগত ভিত্তি দাঁড় করাতে পারেনি। নেতৃবৃন্দ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করে নির্বাচন কমিশন যতো শক্তিশালীই হোক না কেন সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। নেতৃবৃন্দ সকল দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল, অবৈধ সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের অধিনে নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দাবি করেন। একই সাথে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার উচ্ছেদ করে গণদাবি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.