ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতিবাদে বাম জোটের বিক্ষোভ

ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতিবাদে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাম জোটের ঢাকা নগর সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক কমরেড অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগ ভোটার কেন্দ্রে না গিয়ে ভোট দানে বিরত থেকে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি গণঅনাস্থা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে প্রত্যাখান করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতাত্তোর ৪৯ বছরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ধারায় দেশ পরিচালনা করতে করতে দেশের এই হাল দাড় করিয়েছে, গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্র-পরিবারতন্ত্রে পরিণত করেছে, নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। আওয়ামী মহাজোট ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিনের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে আর গত ১ ফেব্রুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্র-ভোটাধিকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশের ৪৯ বছরে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে এবং বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থায় দেশের কোন নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। ফলে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে উচ্ছেদ করা ছাড়া কোন বিকল্প নাই।

নেতৃবৃন্দ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ব্যাপক গণসংগ্রাম গড়ে তোলার উপর জোর দেন এবং গণতন্ত্র-ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে সকল বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.