ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পেঁয়াজ, চাল ও আলুর পাশাপাশি এবার বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। দেশে গত এক মাস যাবত ভোজ্যতেলের দাম চড়া। এক দশকের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এখন। এর আগে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল ২০০৮ সালে। এর প্রধান কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে সেই বছরের মার্চে মালয়েশিয়ার ফিউচার মাকের্টে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছার ঘটনা ঘটেছিল। এবছর সে রকম কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে পাম অয়েলের বাজার।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় এই সময়ে দেশেও সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি খোলা পাম তেল ৯০ টাকা আর সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা লিটার দরে। খুচরা বাজারে এখন প্রতি লিটার তেলের দাম ১১০ থেকে ১১২ টাকা। পাইকারিতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রয়েছে ৮৮ টাকা ৭৫ পয়সা। আর মিল মালিকরা নতুন দাম চাচ্ছেন ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে পরিবহন ব্যয় ও লভ্যাংশ।

সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর এই পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলেই কেবল দেশের বাজার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সয়াবিনের মজুদ কমে যাওয়ার কারণেই মওসুমের শেষ দিকে এসে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, বিক্রেতারা ইচ্ছে মতো দাম বাড়িয়ে দিয়ে ক্রেতাদের জিম্মি করে রেখেছে। বাংলাদেশে ডলারের দাম ৮৫ টাকা ধরলেও এই তিন মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি মেট্রিক টনে আড়াই থেকে ৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেখা যায়, জাহাজিকরণের সময় সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মেট্রিক টন ৭৬০ ডলারের মধ্যে থাকলে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বছরের অধিকাংশ সময় জুড়ে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৮২ থেকে ৮৬ টাকার মধ্যে। পামওয়েলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকে। অক্টোবরের শেষ পর্যায়ে এসে খুচরায় সয়াবিন তেল ৯৭ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পামওয়েলও বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম ১৬ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ৩২ শতাংশ বেড়েছে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট নেই, তারপরেও হুহু করে দাম বাড়ছে প্রায় সব ধরনের পণ্যের। ফলে দেশের জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে প্রতিটি পণ্যের দাম। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উচিত এই দুর্যোগকালে জনগণের কথা চিন্তা করে নিত্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারের উচ্চমূল্যও নিয়ন্ত্রণ করা।

অতীতে সরকার বাজার নিয়ে অনেক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে অসাধু ব্যবসায়ী আর বিক্রেতাদের মন-মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরা মহামারি করোনা ভাইরাসকালেও জনগণের কথা চিন্তা করেনি। এরা বাজার সন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায়ে ধনী হওয়া যায় সেটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। জনগণের স্বার্থ তাদের কাছে প্রধান বিষয় না। ফলে দেশের সাধারণ জনগণ এসব অসাধু ব্যবসায়ী আর বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। অসৎ ও অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সরকারকে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে।