ভারতে আদালতে গুলি, মৃত তিন

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি আদালতের ভেতর গোলাগুলির ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিতেন্দর গোগিসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

গতকাল উত্তর দিল্লির রোহিনীর একটি আদালতে এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত শুনানিতে দুজন বিচারক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামি জিতেন্দরসহ ছিলেন বেশ কয়েকজন আইনজীবীও। হামলাকারীরা আইনজীবীদের পোশাক পরেই আদালত কক্ষে প্রবেশ করেন। হামলাকারীরা জিতেন্দরকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি ছোড়েন। এ সময় আসামিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে দুই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। গোলাগুলিতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শুক্রবার জিতেন্দরকে তিহার জেল থেকে রোহিনির আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বিচার চলছিল। দর্শকাসনে কিছু ব্যক্তি বসে ছিলেন। আচমকাই আইনজীবীদের পোশাক পরা কিছু ব্যক্তি জিতেন্দরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জিতেন্দরের। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে স্পেশাল সেলের অফিসাররা। দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য করে তারাও পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করে। আদালত চত্বরে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। কারণ, ওই সময় আদালতের অন্য ঘরগুলিতেও বিচারের কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলির আওয়াজ পেতেই বিভিন্ন ঘর থেকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাইরের দিকে ছুটতে শুরু করেন। ততক্ষণে অবশ্য জিতেন্দরের ঘরটি ঘিরে ফেলেছে স্পেশাল ফোর্সের অফিসাররা। তাদের গুলিতে অন্ততপক্ষে দুই বিরোধীপক্ষের দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। আপাতত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

গোটা ঘটনায় রোহিনি আদালতের নিরাপত্তার ঢিলেঢালা অবস্থা স্পষ্ট হয়ে গেছে। কীভাবে আদালতের ভিতরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, দিল্লির যে কোনো আদালতে ঢোকার জন্য একাধিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর ভিতর দিয়ে যেতে হয়। তা হলে কী প্রশাসনের ভিতরের লোকই ওই দুষ্কৃতীদের অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে সাহায্য করেছে? সমাজমাধ্যমে এ প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য,

গোগি গ্যাং ও টিল্লু গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ অনেক পুরনো। দুই পক্ষের বিরোধে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত ২৫ জনের। তবে গতকালের এ ঘটনাকে দুদলের মধ্যকার যুদ্ধ বলতে রাজি নন পুলিশ কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.