ভারতে অক্সিজেন সংকট: মোদীকে কড়া চিঠি সীতারাম ইয়েচুরির

অবিলম্বে ভারতের সমস্ত হাসপাতালে এবং রোগীদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া চিঠি দিলেন সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

একইসঙ্গে, দেশের সমস্ত মানুষকে বিনা খরচে টিকাকরণের স্বার্থে পর্যাপ্ত করোনা-টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এজন্য জরুরি ভিত্তিতে কিভাবে টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব, তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন ইয়েচুরি।

ভারতের দৈনিক গণশক্তির এক প্রতিবেদনে আজ (২৫ এপ্রিল) এসব তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে ইয়েচুরি লিখেছেন, এখনই এই দুই পদক্ষেপ নিয়ে আরও ভারতবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু রুখে দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। একাজে ব্যর্থ হলে স্বাস্থ্য ও মানবিক ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।

গত শনিবারই এই চিঠি পৌঁছেছে মোদীর কাছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ইয়েচুরি লিখেছেন, ‘‘তীব্র মনোবেদনা এবং যন্ত্রণা নিয়ে এই চিঠি লিখছি। কোভিড-১৯’র দ্বিতীয় স্রোতে স্বাস্থ্য ও মানবিক ক্ষেত্রের নজিরবিহীন বিপর্যয় সুনামির চেহারা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ও আচরণে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। তবে এখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় নয়, কারণ আমাদের প্রিয় হাজার হাজার দেশবাসীর মৃত্যুতে এখন আমরা শোকসন্তপ্ত। অথচ এই পরিস্থিতিকে নিশ্চিতভাবেই প্রতিরোধ করা যেত।

এই অবস্থায় আমার অনুরোধ, অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তত দু’টি কাজ করুন।

প্রথমত, যে কোনও মূল্যে সংগ্রহ করে সারা দেশে হাসপাতাল এবং রোগীদের কাছে মেডিক্যাল অক্সিজেনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

দ্বিতীয়ত, বিনা খরচে সর্বজনীন টিকাকরণের জন্য সমস্ত রাজ্য সরকারের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিন। এজন্য ভারতীয় ভ্যাকসিনের উৎপাদনকে জরুরি সংস্থানের আওতায় আনুন এবং প্রাপ্যতা অনুযায়ী সব জায়গা থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করুন। আমাদের দেশে আরও মৃত্যু আটকানোর জন্যই এই কাজ করা দরকার।

আমি জানি, এই পদক্ষেপগুলি নিতে গেলে প্রয়োজনীয় টাকা দরকার। আমার প্রস্তাব, টিকাকরণ কর্মসূচির জন্য বাজেট বরাদ্দের ৩৫,০০০কোটি টাকা অবিলম্বে কাজে লাগান, এই কাজে খরচ করুন। আমি অনুনয় করছি, দিল্লিতে বিপুল খরচে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের কাজ এখনই বাতিল করুন। এমন অপচয়ের যাবতীয় কাজ স্থগিত রাখুন। দেশবাসীর জীবন বাঁচাতে পিএম কেয়ারস তহবিলে সংগৃহীত বিপুল টাকা স্বচ্ছতার সঙ্গে বরাদ্দ শুরু করুন। এই সমস্ত টাকা অক্সিজেন এবং ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ব্যবহার করুন।’’

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়ে ইয়েচুরি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, এর পরেও ‘‘যদি আপনি আমাদের দেশের প্রিয় মানুষজনের কাছে অক্সিজেন এবং ভ্যাকসিন সরবরাহে ব্যর্থ হন, আরও মৃত্যু আটকাতে ব্যর্থ হন, তাহলে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার নৈতিক অধিকার হারাবে আপনার সরকার।’’

মোদীকে সতর্ক করে ইয়েচুরি বলেছেন, ‘‘স্বাস্থ্য ও মানবিক ক্ষেত্রের এই বিপর্যয় রুখে দেওয়া সম্ভব এবং অবশ্যই তা এড়াতে হবে। এই ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করতেই হবে আপনার সরকারকে, এখন পর্যন্ত যা পালন করা হয়নি।’’

 

এদিকে কেন্দ্রের মোদী সরকার যেভাবে বিনা খরচে সর্বজনীন টিকাকরণের দায়িত্ব এড়াতে চাইছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছে সিআইটিইউ, এআইকেএস এবং এসএফআই।

শনিবার দু’টি পৃথক বিবৃতিতে সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (সিআইটিইউ)’র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন এবং সারা ভারত কৃষকসভা (এআইকেএস)’র সভাপতি অশোক ধাওয়ালে ও সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে দেশবাসী আজ মৃত্যুর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দেশের মানুষের ভয়াবহ দুর্দশা দেখেও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার যে চরম অদক্ষতা, অবহেলা ও নিষ্ঠুর অনুভূতিহীনতা দেখিয়ে চলেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। কেন্দ্রের নতুন টিকা-নীতি শুধু বৈষম্যমূলকই নয়, এতে দেশবাসীর জীবনের বিনিময়ে বেসরকারি কোম্পানির মুনাফা স্ফীত করতে চাওয়া হচ্ছে। দেশবাসীর প্রতি ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও পালন করতে চাইছে না কেন্দ্র। নয়া নীতিতে রাজ্যগুলিকে প্রতি ডোজ কোভিশিল্ড ৪০০টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ৬০০টাকা দরে খোলাবাজার থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভারতে আরও মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে কোভিশিল্ড উৎপাদক সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউটের কর্তা বিবৃতি দিয়েছেন, এক ডোজ টিকার দাম নাকি ১০০০টাকা হওয়া উচিত! অথচ ইউরোপে এক ডোজ কোভিশিল্ডের দাম ১৬০টাকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০টাকা। মোদী সরকার সবসময়ই বেসরকারি কোম্পানির অতি-মুনাফার স্বার্থে ভারতীয় জনগণের সর্বনাশ করার নীতি নিয়ে চলে। এই টিকা-নীতি এখনই বাতিল করতে হবে। সরকারের দায়িত্বে দেশের সব মানুষকে বিনামূল্যে টিকাকরণ করাতে হবে।

অন্যদিকে, বিনা খরচে সর্বজনীন গণটিকাকরণের দাবিতে আগামী ৩০এপ্রিল সর্বভারতীয় প্রতিবাদ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)।

সূত্র: দৈনিক গণশক্তি অনলাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.