ভারতজুড়ে সহিংসতা: ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প কি, কেন?

ভারতে মোদী সরকার ‘অগ্নিপথ’ নামে দেশটির সেনাবাহিনীতে লোক নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভ দেশটির নানা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন রাজ্যে সাতটি ট্রেন পোড়ানো হয়েছে। ৩০টি ট্রেন আক্রান্ত। স্টেশনে ঢুকে ভাঙচুর করা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা রাজ্যে বিক্ষোভকারীরা একটি ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ রাজ্যের সেকান্দরাবাদ শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আরো অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল, দোকানপাট ও ট্রেন-বাসে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকার এই পরিকল্পনা বাতিল না করা পর্যন্ত তারা থামবে না।

‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প কি?

যে প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংসতা সেই প্রকল্পের নাম ‘অগ্নিপথ’। এর আওতায় প্রথম দফায় ৪৬ হাজার সেনা নিয়োগ দেয়া হবে।

এর আওতায় ১৭.৫ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত বয়স্কদের চার বছরের জন্য সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হবে। চার বছরের মেয়াদ শেষ হবার পর এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মাত্র এক চতুর্থাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রেখে দেয়া হবে -বাকিদের সৈনিক জীবন শেষ হয়ে যাবে।

এই সৈনিকদের নিয়োগ পাবার পর ছয় মাসের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, এবং তার পর সাড়ে তিন বছরের জন্য তারা সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন হবেন। এসময় তারা মাসে ৩০,০০০ রুপি বেতন পাবেন – যা অন্যান্য ভাতা সহ চার বছরে ৪০,০০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছাবে।

কেন ‘অগ্নিপথ’ পরিকল্পনা?

বিবিসি বাংলা (অনলাইন) –এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সরকার বলছে, সামরিক বাহিনীর বেতন ও পেনশনের জন্য সরকারকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় তা কমানোর জন্যই এ পরিকল্পনা।

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এখন প্রায় ৭০০০ কোটি ডলারেরও বেশি – যা পৃথিবীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরেই। কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, এই ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি খরচ হয় বেতন ও পেনশনের জন্য।

সরকার বলছে, অগ্নিপথ পরিকল্পনার মাধ্যমে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা সামরিকবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য খরচ করা যাবে, তা ছাড়া এর ফলে ভারতের সামরিক বাহিনীর একটি ‘তারুণ্যদীপ্ত ভাবমূর্তিও’ তৈরি হবে।

আপত্তি কেন?

প্রকল্প অনুযায়ী চার বছর পর ৭৫ শতাংশ সেনা বেকার হয়ে পড়বেন। মাত্র ২৫ শতাংশ স্থায়ী হবেন।

ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন) –এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা সেনায় পুরো সময়ের কাজের জন্য আবেদন করতে চান। সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চার বছরের জন্য কেন যাবেন? চার বছর পর তাদের কী হবে?

এদিকে ভারতে এখন বেকারত্বের হার প্রায় ৭.৮৩ শতাংশ। সে কারণে এ কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরাও চার বছর পর ৭৫ শতাংশ সেনার কর্মহীন হয়ে পড়ার বিষয়টিকে প্রধান অসুবিধা হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা (অনলাইন)/ডিডব্লিউ বাংলা (অনলাইন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.