বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, কাশ্মীরে উত্তেজনা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তপ্ত ভারত-শাসিত কাশ্মীর। একদিকে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। অন্যদিকে, সীমান্তে সেনার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তুমুল লড়াই হচ্ছে।

ভারত -শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

সোমবার ভারতের সেনাবাহিনী বলছে, সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের গুলিতে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে তাদের পাঁচ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে এখানকার একটি স্কুলে হামলা করেছিল বন্দুকধারীরা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সকল কর্মীকে হাজির করে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপ্যাল এবং একজন শিক্ষককে আলাদা করে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গত দুই দশকে এরকম আরো অনেক নিহত হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত ও শিখরা ছিলেন। ২০০০ সালের মার্চ মাসে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা একটি গ্রামে হামলা করে ৩৫ জন শিখকে হত্যা করে। ২০০৩ সালে পুলওয়ামা জেলায় একটি গ্রামে হামলা করে ২০ জনের বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা করা হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহেই কাশ্মীরে এরকম সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা ঘটছে এমন সময় যখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭০ জন মন্ত্রী কাশ্মীর পরিদর্শন করে গেছেন। সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধার আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করায় কী সুবিধা হয়েছে – সেটা তুলে ধরাই ছিল এই মন্ত্রীদের কাজ।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরকে নিজেদের বলে ভারত ও পাকিস্তান- উভয় দেশই দাবি করে। যদিও উভয়ের হাতে আংশিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক সবসময়েই উত্তেজনাপূর্ণ। কিন্তু যখন ২০১৯ সালে এই এলাকার বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করে নেয়, তখন সেটি আরও তলানিতে চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.