বেতিয়ারা: গান থেকে মেশিনগান

মাহমুদ সেলিম :

১১ নভেম্বর। বেতিয়ারা দিবস। ১৯৭১ এর এই দিনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বেতিয়ারা গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে আমরা হারাই আমাদের নয়জন সহযোদ্ধাকে। শহীদ নিজামউদ্দিন আজাদ, শহীদ সিরাজুম মুনীর জাহাঙ্গীর, শহীদ মো.বশিরুল ইসলাম (বশির মাস্টার), শহীদ আওলাদ হোসেন, শহীদ জহিরুল হক ভুঁইয়া (দুদু মিয়া), শহীদ শহীদুল্লাহ্ সাউদ, শহীদ আব্দুল কাইউম, শহীদ মোহাম্মদ শফিউল্লাহ এবং শহীদ আব্দুল কাদের। ৭৬ জনের পুরো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইয়াফেস ওসমান (বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী)। দুটি গ্রুপ মিলিয়ে ৭৬ জন। আমাদের দলটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে প্রবেশ করা, যেটাকে আমরা বলতাম ‘ইনডাকশন’। শহীদ নিজামউদ্দিন আজাদ নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ১০৩ নং গ্রুপের যেটি ছিল সবার সামনে। আমি ছিলাম ফার্স্ট স্কাউট, অর্থাৎ অগ্রগামী দলের ১ নম্বরে। অস্ত্রের পাশাপাশি মেডিক্যাল কিটও বহন করছিলাম- কারণ আমি ছিলাম দলের ইমার্জেন্সি চিকিৎসকও। বিপজ্জনক পাকা সড়ক পার হওয়ার আগে দলনেতারা সিদ্ধান্ত নিলেন পুরো টিমকে কাভার দেয়ার জন্য দুটো কাভার টিম বসাবেন। সে অনুযায়ী আমাকে সহ প্রথম ৫ জনকে সারি থেকে কেটে নিয়ে ওয়াদুদ ভাইয়ের নেতৃত্বে বসানো হলো লেফট কভার। রিয়ার কাট এর ৫ জনকে বসানো হলো রাইট কভার হিসেবে। ফলে নিজামউদ্দিন আজাদ ভাই পড়ে গেলেন সবার সামনে। আমাদের জানা ছিলো না আমাদের আসার খবর আগেভাগেই জানতে পেরে পাকি বাহিনী মৃত্যুফাঁদ অর্থাৎ “অ্যামবুশ” পেতে রেখেছিলো।

মরণপণ লড়াই শেষে ৭৬ জনের মধ্যে ৯ জনকে হারিয়ে আমরা যখন ফিরে এলাম, তখন আমরা বিধ্বস্ত। প্রিয়জনের শোকে কাতর। তখন গান কীভাবে আমাদের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছিলো সে কথাই আজ বলবো। যুদ্ধের বর্ণনাতো অনেকবারই দেয়া হয়েছে। শুরু করবো ট্রেনিং-এর পুরোটা সময় গান কীভাবে সমগ্র বাহিনীর প্রাণস্বরূপ ছিলো, সেটা দিয়েই। কথাসূত্রে হয়তো নিজের কথাই বেশি আসবে, সেজন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের পুরোটা সময় আমাদের হাতে ছিল স্টেনগান, মেশিনগান আর কণ্ঠে ছিলো গান। দেশাত্ববোধক গান থেকে আধুনিক, নজরুল, রবীন্দ্র, গণসঙ্গীত হয়ে ক্ল্যাসিক্যাল পর্যন্ত। ঘরবাড়ি থেকে বিচ্ছিন্নতা কাটাতে, কঠিন ট্রেনিংয়ের ক্লান্তি দূর করতে, দেশের জন্য প্রাণ বলিদানে উজ্জীবিত করতে আমাদের প্রাণকে জাগিয়ে রাখতো গান।

শুরুটা ক্র্যাফটস্ হোস্টেল থেকে। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না। চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম জানু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন করা মানুষ। তাঁর যোগাযোগের ভিত্তিতেই আমি সহ চারজন গিয়ে উঠি ক্র্যাফটস্ হোস্টেলে। সামনের ভবনটি দোতলা। তারপরে একটি উঠোন পেরিয়ে টিনেরচালা দেওয়া লম্বা ঘর। সেখানেই চাটাইতে আমরা সারিবদ্ধভাবে ঘুমাতাম।

সকালে উঠে সারিবদ্ধভাবে মাটির সানকি হাতে নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার। এই প্রথম দেখলাম বড় বড় নেতাসহ সবাই সুশৃঙ্খলভাবে খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে। কমরেড মনি সিংহও। একবার ভদ্রতা করে তাঁকে আমার সামনে যেতে বলায় প্রচণ্ড এক ধমক খেয়েছিলাম।

সেই ক্র্যাফটস্ হোস্টেলের চাটাইতে শুয়ে আছি। সবে সন্ধ্যা হয়েছে। বড় করে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। এমন সময় একজন ভদ্রমহিলা। গরদের লালপেড়ে শাড়ি পরা। কপালে বড় লাল টিপ। আনমনে গান গাইতে গাইতে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করলেন। দৃষ্টি তাঁর পূর্ণিমা চাঁদের দিকে। গাইছিলেন একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত-

‘যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে চাঁদ উঠেছিল গগনে

দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে কী যেন কি মহালগনে’

কী সুন্দর কণ্ঠ! আমরা সবাই উঠে বসেছিলাম। গানটি পুরোটা গেয়েই তিনি যেমন এসেছিলেন, তেমনি চলে গেলেন। সকলের সসম্ভ্রম আচরণ দেখে বুঝলাম তিনি বড় কেউ একজন হবেন। পাশের জনকে প্রশ্ন করলাম-

– কে?

– চেনো না? মতিয়া আপা।

আমি তো রাজনীতির র’ও বুঝি না। তাই মতিয়া আপা কে, বা কী কিছুই জানিনা। প্রশ্ন করলাম-

– কোন মতিয়া আপা?

আশেপাশে সবাই যেন অবাকও হলো, আবার বিরক্তও হলো। কোত্থেকে এসেছে গাড়লটা? আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন জানু ভাই। বললেন-

–মতিয়া আপা বিখ্যাত ছাত্রনেত্রী। ডাকসুর ভিপি। তাঁকে বাংলার অগ্নিকন্যা বলা হয়।

তখনও বুঝে উঠতে পারিনি গান আর আগুন কিভাবে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে। পরে জানলাম আজ মতিয়া আপার বিবাহবার্ষিকী।

ট্রেনিংয়ের জন্যে অস্থির হয়ে আছি। এমন সময় ডাক পড়লো। ইন্টারভিউ। সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক এবং আব্দুল হালিম পরীক্ষক। আমি কাউকে ভালভাবে চিনিনা। তবু যুদ্ধে তো যেতেই হবে। তাই সাহস করে বসলাম ইন্টারভিউতে।

– তুমি কোন ছাত্র সংগঠন করতে?

– ছাত্র ইউনিয়ন করতাম।

মিথ্যে বললাম। কারণ, আমি শুনেছিলাম এটা ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ আর কমিউনিস্ট পাটির রিক্রুটিং সেন্টার। মানিক ভাইয়ের মুখে মৃদুহাসি। প্রশ্ন করলেন-

-ছাত্র ইউনিয়নের মূল নীতি কি?

আমি কী করে জানবো ছাত্র ইউনিয়নের মূলনীতি কী? দু’কান গরম হয়ে গেলো। তবু মনের সমস্ত শক্তি একত্র করে বললাম-

-এগার দফা।

হো হো করে হেসে উঠলেন মানিক ভাই, হালিম ভাই এবং আরও কয়েকজন। হাসি থামিয়ে মানিকভাই বললেন, ‘ঠিক আছে তুমি সিলেকটেড’।

খুশিতে নেচে উঠতে উচ্ছে করলো।

পরদিন আমাদের পাঠানো হলো বরদোয়ালী ক্যাম্পে। ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান, ছাত্রনেতা ইয়াফেস ওসমান, মাহবুব জামান, নিজামউদ্দিন আজাদ, ডা. সারওয়ার আলী। তাদের কাছে আমাদের রিপোর্ট করতে হলো। বরদোয়ালী স্কুল একটা মেয়েদের স্কুল। ট্রেনিং এ যাবার আগে ট্রানজিট ক্যাম্প। মেয়েদের স্কুল বলে স্কুল টাইমে আমাদের বারান্দায় যাওয়া নিষেধ। বিশাল টিনের ছাউনি দেয়া একটা হল ঘরে আমরা ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে ঘুমোতাম। বিকেলে ওদের স্কুল ছুটি হলে ওরা চলে যেতো। আমরা তখন মাঠটা ব্যবহার করতাম প্যারেড পিটি করার জন্য।

প্যারেড পিটির যার চা খেয়ে আসর বসলো। সবচেয়ে লম্বা মানুষটা, যার নাম মনজুরুল আহসান খান, গমগমে কণ্ঠে গান গেয়ে উঠলেন-

‘ধিতাং ধিতাং বোলে, কে মাদলে তাল তোলে’

তারপর ইয়াফেস ওসমান ধরলেন –

“উঠা হ্যায় তুফান জামানা বদল রাহা

জাগা হ্যায় ইনসান জামানা বদল রাহা”

এর আবার বঙ্গানুবাদ, অনেকেই কোরাস ধরলো –

“উঠলোরে ঝড় দিনবদলের পালা এলো

জাগলো মানুষ দিনবদলের পালা এলো”

গণসঙ্গীতের নামটা তখন প্রথম শুনলাম।

আমার যখন পালা এলো। তখন আমি বিব্রত। কারণ আমার সংগ্রহে তো আধুনিক গান ছাড়া খুব কমই গান আছে। সবার অনুরোধে দুটি আধুনিক গানই গাইলাম।

“ও আমার মন যমুনার অঙ্গে অঙ্গে” আর

“আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি”

আমার জড়তা কাটিয়ে দিতেই যেন নিজামউদ্দিন আজাদ ভাই গান ধরলেন–

“এইতো বেশ এই

নদীর তীরে বসে গান শোনা”

আবার

“এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মন যেতে নাহি চায় নাহি চায়”

এরপর সঞ্জয় সরকার গাইলেন। সবশেষে চাঁদপুরের মিজান ভাই একটা মজার গান ধরলেন। লোক সুরে-

“হাজিগঞ্জ গেরামেতে, খোরশেদ মিয়া নামেতে

এক ছেরিতে পাগল করল বাংলা সাবানে

যার নয়নে রূপ লাইগাছে যারে

যার নয়নে”

হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল ধরার অবস্থা। সেই থেকে চাঁদপুরের মিজান ভাইয়ের নাম হয়ে গেল “বাংলা সাবান মিজান”।

খুব ভোরে উঠে প্যারেড পিটি। সকালের নাশতা তৈরি। তারপর নাশতা করে স্কুল শুরুর আগেই আমরা হল ঘরে গিয়ে ঢুকতাম। এটা আমাদের নিষিদ্ধ সময়। উচ্চস্বরে কথা বলা বারণ। কিন্তু হলের ভিতরে নিয়মিত ক্লাস চলত মুক্তিযুদ্ধ দেশ পাকিস্তানি শোষণ নিপীড়ন দেশ বিদেশে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইত্যাদি নানা বিষয়ে। ভিয়েতনামের গেরিলা যুদ্ধের কাহিনী পড়ে শোনানো হতো। দুপুরের রান্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ রান্না সম্পন্ন করলে আমরা হলের ভেতরেই খেয়ে নিতাম। তারপর বিশ্রাম। স্কুল ছুটি হয়ে গেলে আমরা মাঠে প্যারেড পিটি শেষ করে হাত মুখ ধুয়ে চা খেতাম।

তারপর যথারীতি গানের আসর। মঞ্জু ভাই আর ইয়াফেস ভাইয়ের কাছে যেন গানের ভাণ্ডার-

“Through the winters cold and famine

From the fields and from the towns

At the call of comrade Lenin

There arose the partisans”

আবার এর বঙ্গানুবাদ-

“ভেদি অনশন মৃত্যু তুষার তুফান

প্রতি নগর হতে গ্রামাঞ্চল

কমরেড লেলিনের আহ্বান

চলে মুক্তিসেনা দল।”

“Whirl winds of danger are raising

armed us overwhelming torus of darkness

assail still in the tights see advancing betweens

red flag of liberty that yet shall prevail”

এ গানটার বঙ্গানুবাদ শুনিনি কখনো।

মঞ্জু ভাই গাইতেন প্রেম ধাওয়ায়নের লেখা হিন্দি গণসংগীত

“ইয়ে ওয়াক্ত কি আওয়াজ হ্যায় মিলকে চলো

ইয়ে জিন্দেগি কা রাজা হ্যায় মিলকে চলো।

মিলকে চলো মিলকে চলো মিলকে চলো”

কখনো একটা ইংরেজি গান –

Que sera sera, whatever will be will be

সবচেয়ে সম্মানের সাথে আমরা একটা গান গাইতাম, সবাই দাঁড়িয়ে। ঊর্ধ্বে মুষ্ঠি তুলে– “ইন্টারন্যাশনাল”

“জাগো জাগো জাগো সর্বহারা

অনশন বন্দী ক্রীতদাস।”

তারপর ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়ে আসর শেষ হতো।

তেজপুর ট্রেনিং ক্যাম্প-এ গিয়ে আরও তিনজন সংগীতশিল্পীর সাথে পরিচয় হয়। একজন আওলাদ। খুব সুন্দর কণ্ঠে গাইতেন সতীনাথের গান-

“জানি একদিন

আমার জীবনী লেখা হবে

সে জীবনী লিখে রেখো

তোমাদের গানের খাতায়।”

বেতিয়ারা যুদ্ধে শহীদ আওলাদের নাম ইতিহাসের খাতায় লেখা হয়ে গেছে। আরেকজন বগুড়ার ফটু ভাই। ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের গাওয়া একটা গান প্রায়ই গাইতেন-

“আমি চেয়েছি তোমায়

সেকি মোর অপরাধ”

এই ফটু ভাই এবং আরও কয়েকজন মিলে ‘কমিউনিস্ট আমরা, আমরা কমিউনিস্ট’ এই গানের সুরে নতুন কথা বসিয়ে রচনা করলেন সেই বিখ্যাত গান-

“গেরিলা, আমরা, আমরা গেরিলা

স্বাধীনতার রক্তে রাঙা আমরা গেরিলা।”

আর একজন কুদ্দুস ভাই। উদাত্ত কণ্ঠে গান ধরতেন-

“ভাটি গাঙ্গের ভাইটাল সুরে বাঁশি

কে বাজাইয়া যাও তরে বন্ধু”

তখন দু’চোখে ভেসে উঠতো নদীমাতৃক বাংলাদেশ। মনে পড়ে যেতো আমার মাতৃভূমি আজ শত্রু কবলিত। আর তখনই মাতৃভূমিকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে চিবুক দৃঢ় হতে দৃঢ়তর হয়ে উঠতো।

না। আমরা কখনো হতাশ বোধ করিনি। গান আমাদের ট্রেনিংয়ের সকল কষ্ট সকল ধকল এবং আত্মীয় পরিজন থেকে বিচ্ছিন্নতার সকল মনোবেদনা থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

ইয়াফেস ভাইয়ের ভৈরবী কাফি ঠুমরি ‘ভালামুরা মন ভাজো মুরলী বাজাই’

নজরুল সংগীত। মতি গাইত লোকগান –

“তুই মোর এ হিনি দয়াল কালিয়ারে।”

মনে হতো আমরা দূরে কোথাও নেই। দেশেই আছি।

বেতিয়ারা যুদ্ধে আমরা যখন নয়জন সহযোদ্ধাকে হারালাম পুরো দল ভগ্ন মনোরথ। শোকে মূহ্যমান। তখন কমরেড মনজুরুল আহসান খান তার বলিষ্ট কণ্ঠে আদেশ করলেন-

-‘কমরেডস স্ট্যান্ড আপ’

আমরা ঝট করে উঠে দাঁড়ালাম।

-‘ফলইন’

আমরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়লাম।

-‘কুইক মার্চ’

আমরা মার্চ করতে শুরু করলাম

-“চেক হোল্ড ওয়ান টু।”

আমরা থাকলাম।

তিনি এক অগ্নিঝরা উজ্জীবনী ভাষণ দিলেন। আমরা হতাশা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইলাম। কিন্তু বেরিয়ে আসার পথটি ঠিক খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তিনি বলেন কমরেডস। “দ্যা ইন্টারন্যাশনাল”। আমরা প্রবল আবেগে গান ধরলাম-

“জাগো জাগো জাগো সর্বহারা

অনশনবন্দী ক্রীতদাস..”

আমরা ছন্দ খুঁজে পেলাম। আলোয় বেরিয়ে এলাম। আবার আমাদের মাথা প্রবল দর্পে আকাশ স্পর্শ করলো। বেতিয়ারা যুদ্ধের স্মৃতি কখনোই মুছে যাবে না। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় হয়তো আমার নাম দেয়া হয়নি। তাতে দুঃখ নেই। সাড়ে সাত কোটি মানুষের এ বিপুল আত্মত্যাগ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের দাগ, তিন লক্ষ মা-বোনের লাঞ্ছনার ইতিহাস, পাশাপাশি নিজামউদ্দিন আজাদসহ শহীদ বন্ধুদের স্মৃতিতো মিথ্যে হয়ে যেতে পারে না।

লেখক : সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

Leave a Reply

Your email address will not be published.