বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার ২ বছর: বিচার প্রক্রিয়া যে পর্যায়ে

বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার দুই বছর পূর্ণ হল আজ বুধবার।

এত দিনেও বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। এখন এই মামলার বিচারে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

মহামারীর কারণে দীর্ঘ ছুটির পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের ভুলের কারণে পুনরায় অভিযোগ গঠন, বিচারকের প্রতি আসামিপক্ষের অনাস্থা, বিচারকের কেভিডে আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনায় এ মামলার বিচার বিলম্বিত হয়েছে বার বার।

বহুল আলোচিত এ মামলায় এখনো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাবে।

আগামী ২০ অক্টোবর মামলায় পরবর্তী তারিখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ পরদিন চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, শিবির সন্দেহে তাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

মামলার তদন্তের পর ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, আসামীরা র‍্যাগিংয়ের নামে বুয়েটে আতংক বা একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার ধারাবাহিকতাতেই একাধিক কারণে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। এর তথ্য-প্রমাণ তারা তদন্তে পেয়েছেন।

তদন্তের পর ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ। ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি সেই অভিযোগপত্রটি আদালত আমলে নেন। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আসামীদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ৩০২ ধারায় নরহত্যা, ৩০২ এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী হত্যার পূর্ব-পরিকল্পনা এবং ১০৯ ও১১৪ ধারায় হত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগ গঠন করা হয়। এসব অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

এই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগে কিছু ভুল সংশোধন করে অভিযোগ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বিচার চলাকালে মোট ৪৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত ২২ আসামী কারাগারে রয়েছেন, তিনজন পলাতক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.