বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১৬ কোটি; ঝুঁকিতে ৯০ লাখ

বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ কোটিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত চার বছরে বেড়েছে ৮৪ লাখ। এছাড়াও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত ৯০ লাখ শিশু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘চাইল্ড লেবার: গ্লোবাল এস্টিমেটস ২০২০, ট্রেন্ডস অ্যান্ড দ্য রোড ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনিসেফ এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে বলা হয়, মহামারির মাঝে গত মার্চ ২০২০ থেকে স্কুল বন্ধ থাকা এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি অনেক শিশুকে শিশুশ্রমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুশ্রম বন্ধে অগ্রগতি গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো থমকে গেছে। অর্থাৎ যে নিম্নমুখী প্রবণতা হয়েছিল তা আবার ঘুরে গেছে। ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কমে ৯ কোটি ৪০ লাখে নেমে এসেছিল।

প্রতিবেদনে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

শিশুশ্রমে নিযুক্ত ৭০ শতাংশ শিশুই (১১ কোটি ২০ লাখ) কৃষি খাতে নিয়োজিত। বাকিদের মধ্যে ২০ শতাংশ (৩ কোটি ১৪ লাখ) সেবা খাতে এবং ১০ শতাংশ (১ কোটি ৬৫ লাখ) শিল্প খাতে নিয়োজিত রয়েছে।

শিশুশ্রমে নিয়োজিত ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ২৮ শতাংশ এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৩৫ শতাংশ স্কুলের বাইরে রয়েছে।

সব বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেই মেয়েদের তুলনায় ছেলেশিশুদের শিশুশ্রমে নিযুক্ত হওয়ার হার বেশি। সপ্তাহে অন্তত ২১ ঘণ্টা গৃহস্থালি কাজে সম্পৃক্ত থাকে এমন শিশুদের বিবেচনায় নিলে শিশুশ্রমে লিঙ্গ ব্যবধান কমে আসে।

গ্রামাঞ্চলে শিশুদের শ্রমে নিযুক্ত হওয়ার হার (১৪ শতাংশ) শহরাঞ্চলের (৫ শতাংশ) তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

আইএলও ও ইউনিসেফ বলছে, সাব-সাহারা আফ্রিকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বারবার ফিরে আসা সংকটময় পরিস্থিতি, চরম দারিদ্র্য এবং অপর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গত চার বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ শিশুকে শ্রমের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০১৬ সালের পর থেকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছিল। তবে এখন কোভিড-১৯ এই অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.