বিনা ভোটের সরকার সিন্ডিকেট ওয়ালাদের বিশ্বস্ত পাহারাদার: সেলিম

তথাকথিত মুক্তবাজারে দেশের মানুষ আজ মুনাফাখোর ধনিকগোষ্ঠীর জালে বন্দি হয়ে পড়েছে। বিনা ভোটে নির্বাচিত সরকার সিন্ডিকেট ওয়ালাদের বিশ্বস্ত পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ-সমাবেশে একথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের এই বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, অন্যতম সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক আসলাম খান।

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সেলিম বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা আওয়ামী দুঃশাসনের গণবিরোধী চরিত্রের আরেকটি নিদর্শন।

তিনি বলেন, সঙ্কট দ্রুত নিরসণের পরিবর্তে সরকার তামাশা করতে ছাড়েনি। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যা ছিল জনগণের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত। কমরেড সেলিম আরও বলেন, শুধু পেঁয়াজ নয় ধানসহ প্রতিটি কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে একদিকে কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে অন্যদিকে জনগণের উপর বর্ধিত দামের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের সহায়তায় কোটিপতিদের সিন্ডিকেট হাজার কোটি টাকা জনগণের পকেট থেকে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এবারের পেঁয়াজ সঙ্কট থেকে এই অশুভ শক্তি ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসবই হলো ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ধারার পরিপন্থী পুঁজিবাদী মুক্ত বাজার নীতির ফলাফল।

সভায় কমরেড সেলিম আরও বলেন, মুক্তবাজার লুটেরাদের জন্য অভয়ারণ্য হলেও সাধারণ মানুষের জন্য দুবির্ষহ যন্ত্রণা। এ ধরনের সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দেশের প্রতি ইউনিয়নে অস্থায়ী গুদাম স্থাপন করে খাদ্য-শস্য সংরক্ষণ করা অপরিহার্য। এজন্য ৫ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে। সরকার লক্ষ কোটি টাকা অপচ করছে, বিদেশে পাচারের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু বাজেটের ১ থেকে ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে এ ধরনের গুদাম তৈরির পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি কৃষকসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমন ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। গত বোরো মৌসুমের মত কেউ যেন কৃষককে ধানের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত করতে না পারে সেজন্য ‘হেইসামালো’ এবং ‘জানকবুল’ আওয়াজ তুলে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.