বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি বাম জোটের

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং এ চরম ব্যর্থ ও দায়িত্বহীন বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বাম জোটের এক সমাবেশ থেকে বাম নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার দেশের গোটা বাজার ব্যবস্থা নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, বাজার সিন্ডিকেটকে যা খুশী তাই করার লাইসেন্স দিয়েছে। বাজারে গেলে মনে হয় না দেশে কোন সরকার আছে!

সরকারের চুড়ান্ত ব্যর্থতা, অকার্যকরীতা এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম প্রতিরোধ করে মানুষ বাঁচানোর দাবিতে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় পুরানা পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাম জোটের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, বাসদ -মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আবদুল আলী এবং ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদীর বিধান দাস।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার দেশের বাজার ব্যবস্থাকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছে; বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে যা খুশী তাই করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগে মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেট দেশের মানুষকে রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছে।  বাজারে গেলে মনে হয়  না দেশে কোন সরকার আছে। ক্ষমতায় থাকতে এখন আর ভোটের প্রয়োজন না থাকায়  তারা একের পর এক স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ  গ্রহণ করছে। গত দুই বছরে ভোজ্য তেলের দাম আট দফা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম গত দুই  বছরে ৫০৫ টাকা থেকে  অবিশ্বাস্যভাবে  এখন ৭৯৫ টাকায় উঠেছে। সরকারের ভূমিকা না থাকায়  বিশ্ববাজারে কিছু মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, চুলার গ্যাসের দাম  বিস্ময়করভাবে ১১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাঁয়তারা চলছে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির। কয়েকমাস আগে ডিজেল ও কেরোসিনের  মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা মানুষ এখনও সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি।

বক্তারা ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, মন্ত্রণালয় ও সংস্থার চরম দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়হীনতা, গনবিরোধী ভুল সিদ্ধান্ত, অসংলগ্ন কথাবার্তায় জনজীবনের সর্বগ্রাসী সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোটবিহীন এই সরকার প্রতিদিন মানুষের দুঃখ দুর্দশা চরমে নিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার ও শাসকশ্রেণীকে হঠাতে না পারলে মানুষের মুক্তি নেই।

বক্তারা টিসিবিকে কার্যকর করাসহ গণবন্টন ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই জুলুমবাজ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে  গণসংগ্রাম জোরদার জোরদার করারও আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই সাথে ব্যর্থ সরকার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ জোরদার করারও আহ্বান জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.