বাজেটে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি স্কপের

আসন্ন জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আবাসন, সর্বজনীন পেনশন স্কীম চালুসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ।

আজ (১৮ মে), বুধবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্কপ নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদান পূর্ব সমাবেশে স্কপ যুগ্ম-সমন্বয়ক চৌধুরী আশিকুল আলম এর সভাপত্বিতে এবং আহসান হাবিব লাবলুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন স্কপ নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল কাদের হাওলাদার, রাজেকুজ্জামান রতন, কামরুল আহসান, শামীম আরা, আজিজুন নাহার, আব্দুর রাজ্জাক, নূরূল আমিন, সরদার খোরশেদ, কামাল সিদ্দিকী, রফিকুল ইসলাম, আবু নাঈম খান বিপ্লব প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এস.ডি.জি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এস.ডি.জি’র ১৭ টি লক্ষ্যের প্রথম লক্ষ্য কোনো দারিদ্র্য থাকবেনা, দ্বিতীয় লক্ষ্য খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়ন, অষ্ঠম লক্ষ্য শোভন ও পূর্ণকালীন কাজ নিশ্চিত করা, দশম লক্ষ্য বৈষম্য বিলোপ। করোনা পরবর্তীতে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেড়েছে অপুষ্টি, কর্ম হারিয়ে অনিশ্চয়তায় ধুঁকছে লক্ষ লক্ষ পরিবার, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তীব্র হয়েছে। এই সময়ে এস.ডি.জি অর্জন করতে হলে প্রায় ৭ কোটি শ্রমজীবী মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্যের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, সুস্থ্য কর্মী উৎপাদনের অন্যতম শর্ত তাই শ্রমজীবীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের বার্ধক্যকালিন নিরাপত্তার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কীম চালু করতে হবে। আর সরকারী কর্মচারীদের পেনশন, সঞ্চয় পত্রের সুদ, কৃষি ভর্তুকির টাকা অন্তর্ভুক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ স্ফীত করে দেখালে তা এস.ডি.জি অর্জনের আন্তরিকতার অনুপস্থিতিই প্রমাণ করবে। নেতৃবৃন্দ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী তথা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

১. ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য শ্রমিক-কর্মচারীসহ নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সুলভ মূল্যে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ করা।

২. কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসা, ক্ষতিপুরণ ও পূনর্বাসনসহ সামাজিক বেষ্টনির জন্য বরাদ্দ রাখা।

৩. বাজেটে পাট, চিনি শিল্পসহ রাষ্ট্রীয় কল-কারখানাসমূহ পূনরুদ্ধার ও রক্ষার জন্য বরাদ্দ রাখা।

৪. শ্রমিকদের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা সামজিক সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা। শিল্পঘন এলাকায় শ্রমজীবী হাসপাতাল, শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা।

৫. অর্থ পাচারকারী, ঋণখেলাপীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে প্রাপ্ত অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা।

৬. দুর্নীতি রোধে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রেখে তা বাজেয়াপ্ত ও আদায় করে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার উদ্যোগ নেয়া।

৭. শ্রমজীবীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কীম চালু করা।

৮. ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা।

৯. কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থান ভিত্তিক উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.