বাজেটে কাজ-মজুরি-রেশন-পেনশন-শিক্ষা-চিকিৎসায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সারা বছর কাজ ও খাদ্যের নিশ্চয়তা, রেশনিং চালু, চিকিৎসা নিশ্চয়তা, বয়স্কদের পেনশনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির নেতৃবৃন্দ।

আজ (৩০ মে) রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান বলেন, বাজেটে প্রতিবছর গ্রামীণ ও বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের অনৈতিক যোগসাজশে সাধারণ মানুষ সেই বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হন। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে লোকবল ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবের সাথে ব্যাপক দুর্নীতির ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত হতে হয়। তিনি ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সচল করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ রাখলেই হবে না, সেই বরাদ্দ যাতে প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছায় তার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। গত বছর বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার প্রায় ৯৬ হাজার কোটি বরাদ্দ করলেও এর বড় অংশই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। করোনা মহামারিকালে আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে তাদের পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ গরিব মানুষ আজ খাদ্য, চিকিৎসা সংকটে আছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করাই যেন হয় এবার বাজেটের মূল লক্ষ্য।

সমাবেশে ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা বলেন, আসন্ন বাজেটে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালুর জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। রেশনিং-এর মাধ্যমে ক্ষেতমজুরসহ গরিব মানুষের মধ্যে চাল-আটা-লবন ৫টাকা, ডাল, ভোজ্য তেল ৩০ টাকা, চিনি-কেরোসিন ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করতে হবে। তিনি করোনা মহামারিকালে কর্মহীন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি করেন। সমাবেশে তিনি সকল দরিদ্র ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের পেনশনের দাবি করে বলেন, ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুররা একসময় বয়সের ভারে আর কাজ করতে পারেন না। ফলে তাদের কষ্টে দিন পার করতে হয়। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সেক্টরের কর্মরতরা চাকরি থেকে অবসরের পর অবসরকালীন ভাতা পেয়ে থাকেন। তিনি বয়ষ্কদের বেঁচে থাকার মতো পেনশনের দেওয়ার ব্যবস্থার জন্য বাজেটে বরাদ্দের দাবি জানান। এছাড়াও করোনাকালে আগামী ৬ মাস সকল কর্মহীন দরিদ্র পরিবারকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তারও দাবি জানান।

সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষেতমজুরদের কর্মক্ষম সন্তানদের ভকেশনালসহ বিভিন্ন কাজ করার উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে সরকারি খরচে বিদেশে পাঠানো এবং তাদের প্রেরিত রেমিটেন্স থেকে সহজ কিস্তিতে খরচের টাকা কেটে রাখতে হবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে অনেক গরিব মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে পরিবারগুলো আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। বক্তারা বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ দেওয়ার দাবি করেন।

এছাড়াও সম্প্রতি ঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার পরিবার আজ পানিবন্দী উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব পরিবারগুলোকে দ্রুত খাদ্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধগুলো ও হাওর ফসল রক্ষা বাঁধ

টেকসই স্থায়ীভাবে করার দাবি জানানো হয়। ক্ষেতমজুরসহ গরিব মানুষের সন্তানদের বিনামূল্যে উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থার জন্য এবারের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখারও দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন, সদস্য কল্লোল বণিক। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কৃষকনেতা জাহিদ হোসেন খান ও ছাত্রনেতা দীপক শীল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.