বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু

বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মাদ্রাসা আজ (৬ নভেম্বর) শুক্রবার ঢাকায় চালু করা হচ্ছে বলে জানা যায়। যা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম কোন মাদ্রাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের লোহার ব্রিজ এলাকায় নির্মিত এই মাদ্রাসাটির নাম রাখা হয়েছে ‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা’।

বিবিসি সূত্রে জানা যায়, এর আগে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশে আলাদা কোন মাদ্রাসা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হিজড়াদের পড়ানোর কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানা গেছে।

সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ বলছে, বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, এই সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।

বিবিসি বাংলা আয়োজকদের উদ্ধৃত করে বলেন, হিজড়া, বৃহন্নলা, কিন্নরী বা তৃতীয় লিঙ্গ- যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বাংলাদেশের পরিবার ও সমাজে এরা নানাভাবে অবহেলিত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অবাঞ্ছিত। তাই এই জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর লক্ষ্যে এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই মাদ্রাসায় মূলত কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষাও দেয়া হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। ফলে এখান থেকে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কারিগরী পেশায় যুক্ত হতে পারবেন।

এদিকে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য একেবারে একটি আলাদা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়েছেন এই কমিউনিটির সদস্যরা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিজড়াদের ভোটাধিকার দেয়ার পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী তারা নারী বা পুরুষ নয়, বরং হিজড়া হিসেবে পরিচিতি পান। এছাড়া ভোট দেয়া, এমনকি নির্বাচনেও অংশ নিতে তাদের বাধা নেই।

কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মক্তবে ছেলেমেয়েদের যৌথশিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে হিজড়াদের জন্য কোন আলাদা ব্যবস্থা দেখা যায় না।

হিজড়া জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য শিল্পীকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলা বলছে, তাদের কমিউনিটির অধিকাংশের অক্ষরজ্ঞান পর্যন্ত নেই।

তিনি এবং তার সাথীরা বিভিন্ন বিয়ে-জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নেচে গেয়ে, অথবা কারও বাড়িতে নতুন শিশু জন্মালে বখশিশ তুলে জীবিকা চালিয়ে থাকেন।

এছাড়া হাট বাজার থেকেও তারা চাঁদা তুলে থাকেন। এ কারণে এই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে।

মূলত শিক্ষার অভাবেই এই বিকল্প উপায়ে আয় রোজগার করতে হয় বলে দাবি করেন শিল্পী।

তিনি বলেন, “আমাদেরকে তো কেউ কাজে নিতে চায় না। কিছু পড়াশোনা থাকলে হয়তো ভালো কোথাও কাজ করতে পারতাম। পড়াশোনার ব্যবস্থাও তো নাই। এজন্যই আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে নাচ গান করে টাকা ইনকাম করতেন, আমরাও সেটাই করি।”

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসায় পড়ার ক্ষেত্রে কোন বয়স সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি, অর্থাৎ হিজড়া জনগোষ্ঠীর যে কোন বয়সের মানুষ এই মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারবেন।

এমনকি এখানে পড়াশুনা করতে শিক্ষার্থীদের কোন খরচ গুণতে হবে না। মাদ্রাসাটির মহাসচিব মি. হুসাইনী বিবিসি বাংলাকে জানান, মরহুম আহমদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে মাদ্রাসাটির যাবতীয় কার্যক্রম চলবে।