বাঁশখালিতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৫

বাঁশখালিতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৫

চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলার গান্ডামারা ইউনিয়নের এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন৷ আহত অনেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন৷

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে শ্রমিক-পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধে।

আজ (১৭ এপ্রিল) শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে ১৩২০ মেগাওয়াটের ‘এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ এ ঘটনা ঘটে৷

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) হুমায়ূন কবির বিক্ষোভের ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

বিডিনিউজ বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘‘শ্রমকিদের বেশকিছু দাবি-দাওয়া ছিল৷ এসব তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিতে চাচ্ছিল৷ শনিবার সকালে অসন্তাষ বাড়তে থাকে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়৷ সংঘর্ষে স্থানীয় লোকজনও জড়িয়ে পড়ে৷’’

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যেই এলাকায় সেখানকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলছেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে শ্রমিক সরবরাহ করে বাইরের কোম্পানি। তাদের সাথে শ্রমিকদের টাকা পয়সা নিয়ে অনেকদিন ধরেই সমস্যা চলছিলো। ঘটনাটি কম্পাউণ্ডের ভেতরে। আমাদের সেখানে প্রবেশও করতে দেয়া হয়না”।

তবে এলাকাবাসী বলছে কয়েকদিন ধরেই বেতন ভাতাসহ বেশ কিছু দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছিলো।

শ্রমিকরা তাদের বকেয়া পরিষদের জন্যও দাবি জানিয়ে আসছিলো।

এসব নিয়ে আজ তারা সেখানে অবরোধের ডাক দিয়েছিলো বলে জানান বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার একজন অধিবাসী।

“আজ সকালে শ্রমিকরা জমায়েত হচ্ছিলো। তখনি প্রকল্পের বিদেশী শ্রমিক ও পুলিশের সাথে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়,” বলছিলেন স্থানীয় একজন ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষ হয়৷ সেই ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিলেন৷ এস আলম গ্রুপের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান৷

Leave a Reply