বর্তমান সরকার মালিক শ্রেণীর মুনাফা লাভের পাহাড়াদার- বাম জোট

মালিক শ্রেণীর স্বার্থে সরকারের কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে আবারো প্রমাণ হলো বর্তমান সরকার মানুষের জীবন রক্ষা নয়, পোশাক মালিকদের মুনাফা লাভের পাহাড়াদার বলে মন্তব্য করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ।

একইসাথে করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যুকালে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

এর প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল সাড়ে এগারোটায় বাম গণতান্ত্রিক জোট একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।

আজ (৩১ জুলাই) শনিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বাম নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বিবৃতি প্রদান করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ ও জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী কমরেড জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক কমরেড হামিদুল হক।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে, মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে আইসিইউ সংকট, শয্যা সংকটে, জীবন যখন বিপন্ন এবং সরকারের করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যেখানে লকডাউন আরও বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে তখন মানুষের জীবন রক্ষার পদক্ষেপ না নিয়ে কারখানা খোলার ঘোষণা গোটা দেশবাসীকে হতবাক করেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের কাছে দায়হীন আমলা নির্ভর লুটপাটকারীদের স্বার্থ রক্ষাকারী সরকার গত বছরেও এপ্রিল-মে মাসে সাধারণ ছুটি ও গণপরিবহন বন্ধ থাকার সময় গার্মেন্টস খোলা ও সমালোচনার মুখে পুনরায় বন্ধ করার মাধ্যমে শ্রমিকদের নির্মম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছিল। ছুটিতে বাড়ি যাওয়া শ্রমিকেরা শত শত মাইল পায়ে হেটে, রিকশা-ভ্যান-অটো, মাছের ড্রামে অবর্ণনীয় কষ্ট করে একবার ঢাকা-সাভার-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ এসেছিল আবার বাড়ি ফিরে গিয়েছিল এতে করোনা সংক্রমণ সব্র্ত্র ছাড়িয়ে পড়েছিল।

এবারেও ঈদের ছুটিতে কঠোর লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বাড়ি গিয়েছে। ঈদের পর ১ দিন গণপরিবহন চালু ছিল, বেশিরভাগ শ্রমিক বাড়ি থেকে ফিরেনি। এমতাবস্থায় শ্রমিকদের যাতায়তের ব্যবস্থা না করে, ভ্যাকসিন না দিয়ে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের আবারও মহাবিপদে ফেলে দিল। আবারো করোনা সংক্রমণ সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করলো।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মালিকের স্বার্থে কারখানা খুললেও, পরিবহনের ব্যবস্থা না করায় অনেকে আসতে পারবে না, যারা আসতে পারবেনা তাদেরকে চাকুরিচুত্যত করা হবে। গত বছরও এমন প্রায় ৫ লক্ষ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছিল। এ ভয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে নানা সংকটে পড়বে এবং করোনা সংক্রমণ বহুগুনে বেড়ে যাবে। এমনিতেই সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ ঘটনার পর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আর এর দায় জনগণের উপর চাপানোর জন্য সরকার এমন অবিবেচনা প্রসুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সকল বিশেষজ্ঞ মত উপেক্ষা করে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ অবস্থায় শ্রমিকের নিরাপত্তা নিাশ্চিত না করে রপ্তানিমুখী কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশ মতো শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য ও নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে লকডাউন আরও বৃদ্ধি এবং দ্রুত সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককের টিকা প্রদান, দিনে কমপক্ষে ১০ লক্ষ টিকা দেয়া, টিকা দানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার জোরদার, সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ছাত্র-যুব সংগঠনকে একাজে যুক্ত করা, গ্রামে-গ্রামে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপজেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা, সকল হাসপাতালে সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা, ন্যাজাল ক্যানোলা বৃদ্ধি, অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা  করার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.