বর্তমান অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হওয়ার রেকর্ড

গত দুই দশকে সবচেয়ে বেশি অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হয়েছে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের সময়ে।

সদ্যসমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে অপ্রদর্শিত বৈধ হওয়ার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী এ সময়ে ব্যক্তিশ্রেণীর প্রায় ১২ হাজার করদাতা মূলধারার অর্থনীতিতে ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ যুক্ত করেছেন। এসব বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধকরণের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে ২ হাজার ৬৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে সরকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিলেও তাতে সাড়া মিলেছে এখনকার চেয়ে তুলনামূলক কম।

অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ প্রথম দেয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, সামরিক আইনের আওতায়। তবে সে সময় তাতে সাড়া দেননি অপ্রদর্শিত অর্থের মালিকরা।

প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। ২০০০-০১ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রেখেছিলেন তিনি। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে সময় ১ হাজার কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হয়।

২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রেখেছিলেন আরেক প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। সে সময় অপ্রদর্শিত ৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বৈধ হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অপ্রদর্শিত ৯ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বৈধ হয়েছিল। সে সময় অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলে ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-১০ অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ হয়েছে ১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার তালিকায় রয়েছেন ডাক্তার, সরকারি চাকরিজীবী, তৈরি পোশাক রফতানিকারক, ব্যাংকের স্পন্সর পরিচালক, স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আরো অনেকে। জুন শেষে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ১১ হাজার ৮৬৯ জন করদাতা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা নগদ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ১ হাজার ৪৫৫ জন ৬১৯ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.