বরিশালে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস মিল চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ

বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইলস মিল অবিলম্বে খুলে দেওয়া সহ বকেয়া ৮ মাসের বেতন পরিশোধ করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বেকার হয়ে পড়া কর্মচারী সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

আজ (১৬ নভেম্বর) সোমবার বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আন্তঃবিভাগীয় সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।

সোমবার সকাল থেকে বরিশাল নগরীর বিভিন্নস্থানের শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা মিছিল নিয়ে রুপাতলী লাগোয়া বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কে জড়ো হতে থাকে। তারা রুপাতলী সড়ক সংলগ্ন সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে সমবেত হয়। ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বরিশাল শাখা,জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, জাতীয় নারী শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্র, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, মহানগর দোকান-কর্মচারী ইউনিয়ন, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন,বরিশাল মহানগর ভ্যান ও ঠেলাগাড়ী শ্রমিক ইউনিয়ন ও বরিশাল মহানগর দর্জি সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে রুপাতলীর বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা অ্যাড. এ. কে আজাদ, বাসদ সদস্য সচিব ডাঃ মনিষা চক্রবর্তী, সদস্য সচিব ইমরান হোসেন রুমন, আখতার হোসেন শ্রুপু, মাস্টার আবুল হাসেম, এমরান হাওলাদার, হারুন শরীফ, ফরহাদ হোসেন, আনিসুর রহমান প্রমুখ।

আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ বলছেন, প্রায় ৮ মাস থেকে কারখানা বন্ধ। বন্ধ শ্রমিকদের বেতন। এই ৮ মাস থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে আসছিল শ্রমিকেরা। মিছিল, মিটিং, স্মারকলিপি পেশ ইত্যাদি নানান কর্মসূচি। আন্দোলনের পাশাপাশি কলকারখানা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার কার্যালয়, শ্রম অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গাতে মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক, বারবার আশ্বস্ত করেও যখন কারখানা খুলে দিচ্ছিল না, বকেয়া বেতন দেয়া হচ্ছিল না তখন বরিশাল-পটুয়াখালি মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

তারা আরো জানান, প্রায় ঘণ্টাব্যাপি সড়ক অবরোধের পর প্রশাসনের কাছে মালিক এই মাসেই কারখানা খুলে দেয়া এবং বকেয়া বেতন দেয়ার অঙ্গিকার করলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

তাদের দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শ্রমিকদের আট মাসের বকেয়া বেতন আটকে রেখে এক আকস্মিক নোটিসে মিল কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। হঠাৎ করে এভাবে মিল-কারখানা শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার কারনে তারা অভাব অনটনের মধ্যে এক দূর্বীসহ জীবন-যাপন করায় বেশ কয়েকবার সংবাদ-সম্মেলন,মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।