বঙ্গভ্যাক্স ও স্বাস্থ্যখাতের কতিপয় হায়েনার দল

এ এন রাশেদা

একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত ১১ জুলাই মোট ২৩০ জনের। প্রতিদিন আরো কত বাড়বে কে জানে! আরও কত মৃত্যুর, কত শোকের মিছিল দেখতে হবে? বর্তমানে বেশিরভাগ মৃত্যুই অক্সিজেনের অভাবে হচ্ছে। ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ১৭ কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় নাকি বেড়ে ২২২৭ ডলার। বৈদেশিক আয়, প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। কিন্তু অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল সর্বত্র লোকবলের অভাব। স্কুল-কলেজে প্রয়োজনমতো ও যোগ্য শিক্ষক নেই। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ওষুধ নেই। অথচ বাজেটের টাকা ফেরত যাচ্ছে প্রতিবছর। আমাদের চারিদিকে এত অক্সিজেন, এই অক্সিজেন প্রযুক্তির সাহায্যে ধরে করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে পারার দেশীয় প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টাকে- আমাদের আমলা নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য প্রশাসন কখনোই কাজে লাগাতে দিবে না। নরেন্দ্র মোদীর দেশ থেকে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের করোনাসহ অক্সিজেন আনতে তারা খুব পছন্দ করে। এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট করোনা যে পরিবারের ঢুকছে- পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিচ্ছে, ওই অক্সিজেনের অভাবেই। শিশু, বৃদ্ধ, বয়োজেষ্ঠ্য, কিশোর কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। গলা টিপে ধরেছে, তাই শ্বাস নিতে পারছে না।

এদিকে টেস্ট করতে দিয়েও ২/৩ দিন পার হলেও রোগী বা পরিবার ফল জানতে পারছে না- ঢাকা মেডিকেলে এসে মৃত্যুর পরও না। করতে হচ্ছে অপেক্ষা পর অপেক্ষা। অথচ গণস্বাস্থ্য এগিয়ে এসেছিল তাদের র্যা পিড টেস্টের গবেষণা নিয়ে। এন্টিজেন টেস্টও করতে চেয়েছিল। সে সময়ে ডায়ালাইসিস করতে আসা রোগীদের হয়েছিল চরম দুর্ভোগ। কোনো হাসপাতালে তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছিলো না, টেস্ট ছাড়া। তাই এইসব ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য করতে চেয়েও তাঁরা অনুমতি পাননি। অথচ আজ রোগে আক্রান্তদের কি দুর্দশা!

আর সেই অ্যান্টিজেনের অনুমতি দিয়েছে বিদেশ থেকে কিট এনে চড়া মূল্যে। সবকিছুই দেখা হচ্ছে ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে। বিদেশ থেকে আমদানি করলে আমলা, এমপি-মন্ত্রীদের শতকরা হিসেবে লাভ থাকে। ২০ মে ২০২১ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে করোনার প্রতি টিকায় বেক্সিমকোর মুনাফা ৭৭ টাকা। তারা লিখেছে, ‘সব খরচ বাদে টিকাপ্রতি এ মুনাফা কোম্পানির। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনকার টিকা বাংলাদেশে আমদানির জন্য চুক্তিবদ্ধ একমাত্র প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা। তাদের এই প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় বেক্সিমকো ৫০ লাখ টিকা সরবরাহ করে সব খরচ বাদে ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। এই আমদানিতে পকেট ভরার কারণে টিকা দেশে উৎপাদিত হোক- এদিকে নজর নেই সরকারি প্রশাসনযন্ত্রের। নজর নেই দেশীয় গবেষণার দিকে, উৎপাদনের দিকে। তাই আমরা দেখতে পাই- ১৭ জানুয়ারি করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানবদেহে পরীক্ষা চালাবার জন্য বিএমআরসি (বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল)’র কাছে অনুমতি চেয়েছিল বাংলাদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক’। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ফেব্রুয়ারিতে সব কিছু জমা দিয়েছিল গ্লোব বায়োটেক।

বিএমআরসির শর্ত ছিল ফেজ-ওয়ান ট্রায়ালের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জীর ওপর পরীক্ষা করতে হবে। তাদের দাবি অনুযায়ী– এটি তাদের নিয়ম। যদিও একসময় বিশ্বব্যাপী এটিই ছিল নিয়ম, কিন্তু এই করোনাকালে সেই নিয়ম তো ভাঙতে দেখলাম প্রায় সর্বত্র। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর কন্যার শরীরে ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষার মাত্রা কমিয়ে আনলেন। বর্তমানে প্রায় সব ভ্যাকসিনের বেলায় তাই হয়েছে। আর সে কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যাকসিন এর ওপর তাদের চিরাচরিত ‘পুরোপুরি নিশ্চিত’ কথাটি লিখছে না। মহামারী অবস্থায় ছাড় দিয়েছে। ওই যে বিশ্বব্যাপী নিয়মের কথা বলছিলাম। সেই নিয়ম অনুযায়ী নাকি বানর ও শিম্পাঞ্জির ওপরে টিকা দেয়ার পর তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কাগজপত্র বিএমআরসির কাছে জমা দিতে হবে। এরপর মানবদেহের ওপর ট্রায়াল চালানোর অনুমতি দেয়া যেতে পারে বলে বিএমআরসি জানিয়েছিল। শিম্পাঞ্জির সংখ্যাও নিরানব্বই (৯৯) টি। এই কথাটি বলতে তো পাঁচ মাস সময়ের প্রয়োজন পড়ে না। দেশের মানুষের দুর্ভোগ মোচনে আগেই দেয়া যেতে পারত। এখানে একটু স্মরণ করতে চাই, ১৬৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ রোগে বহু লোক প্রাণ হারিয়েছিল। দীর্ঘদিন পর তারা জানতে পেরেছিল এই রোগের কারণ ইঁদুর। কিন্তু তারা তার আগেই শহরের সব বিড়াল ও কুকুরকে মেরে শেষ করে ফেলেছিল। তাতে ইঁদুর আরও বেড়ে গিয়েছিল। কারণ বিড়াল তো ইঁদুর মারতো আর কুকুর তাড়া করত। আজ প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর পর ইচ্ছে করলে বিড়াল কুকুর মেরে ফেলা যায় না। তেমনি বানর ও শিম্পাঞ্জি নিয়ে ট্রায়ালের দিনও প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমিক পরিবেশবাদীরা বিশ্বব্যাপী এর বিরোধিতা করছেন। কাজেই নিরানব্বইটি শিম্পাঞ্জি পাওয়া সহজ না। ভারতে ল্যাবরেটরি আছে। তারা দিতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশেও বানর ধরতে গিয়ে বিপত্তি ঘটেছে। গাজীপুরের বরমী এলাকার মানুষ বাধা দিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান তো বাধা মানে না। নতুন আবিষ্কার পুরানো ধারণাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

এই শতাব্দীর শুরুতে জীবের দেহকোষ বা সোমাটিক সেল থেকে ভেড়ার জন্ম দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ স্ত্রী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ছাড়া। তাকে বলা হয়েছিল ক্লোনিং পদ্ধতি। সেই ভেড়ার নাম রাখা হয়েছিল ডলি। একই রকম ৮টি ভেড়া পাওয়া গিয়েছিল। এই ভেড়া যে সন্তান জন্ম দিয়েছিল তার নাম দেয়া হলো পলি। কাজেই এখন তো মানুষের দেহ কোষ বা সেমোটিক সেল দিয়ে পরীক্ষা চালানো যেতে পারে। এই কথাটি একদিন বঙ্গভ্যাক্সের বিজ্ঞানী ডক্টর মহিউদ্দিন আহমদ ৭১ টিভির এক প্রশ্নের উত্তরে বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপস্থাপিকা কর্কশভাবে তাকে থামিয়ে দিলেন। বিএমআরসি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল তা তো প্রায় ১০০ বছর আগের সিদ্ধান্ত। বর্তমানে বিশ্ব মহামারীর কারণে ভিন্ন চিন্তা এবং নানা চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের ট্রায়াল বানরের ওপর না দিয়ে ইঁদুর বা গিনিপিগের ওপর দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে। তাহলে বিএমআরসি বানর বা শিম্পাঞ্জির কথা বলে কিভাবে?

বঙ্গভ্যাক্সের আবিষ্কারের টিম লিডার কাঁকন নাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন– ‘এই ভ্যাকসিনের দুটো বৈশিষ্ট্য আছে। এটি খুব সম্ভবত সিঙ্গেল ডোজ ভ্যাকসিন হতে যাচ্ছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন হবে’। যে ট্রায়ালগুলো তারা করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই তিনি কথাগুলো বলেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘ভ্যাকসিনটি সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে, এই প্রথম আমরা মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে মৌলিক ডিজাইনের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এটি কোনো কপি ড্রাগ নয়। এটি পুরো দেশবাসীর গর্বের ব্যাপার।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আজ প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল আমরা বিএমআরসিতে জমা দিয়েছি এথিক্যাল ক্লিয়ারেন্স-এর জন্য। এর আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করেছিলেন সাইন্টিফিক রিভিউ কমিটি, উনারা একাধিকবার আমাদের ডাটা অ্যানালিটিক্স করেছেন। অডিট করেছেন… করে উনারা সবকিছু সন্তোষজনক পাওয়া সাপেক্ষে এই ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য, উৎপাদন করার জন্য জিএমপি লাইসেন্স দিয়েছেন। তার মানে হচ্ছে টেকনিক্যালি ও সাইন্টিফিক্যালি এটা কার্যকরী এবং নিরাপদ, এইটুকু প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেই স্বীকৃতি পেয়ে গেছি সরকারের কাছ থেকে।’

এ সময়ে এবং ভ্যাকসিন অপর বিজ্ঞানী নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘গতকাল ভারতের বায়োফান থেকে একজন সিনিয়র ডিরেক্টর আমাদের ফোন করেছেন যে, আমরা বঙ্গভ্যাক্স নিতে চাই। আমরা পাবলিকেশনের জন্য জমা দিয়েছি। সেগুলো ওনারা দেখেছেন, পড়েছেন। বলেছেন তোমরা এত সূক্ষ্মভাবে ডাটা কাজ করিয়েছো, আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য– বঙ্গভ্যাক্স পৃথিবীতে সুপরিচিতি পাবে। বাংলাদেশ যে এত এগিয়ে গিয়েছে, নিকটবর্তী দেশ হিসাবে আমরা গর্ববোধ করি।’

এই কথোপকথনের সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, তথ্যসচিব খাজা মিয়া, সাবেক মুখ্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন। (সূত্র: ইউএনবি)। ‘নয়াদিগন্ত’ যা প্রকাশ করেছিল ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১।

অথচ ১৬ জুন ২০২১ ‘আমাদের সময়’ প্রকাশ করেছে: ‘অনিশ্চয়তার পথে বঙ্গভ্যাক্স টিকার অনুমোদন’। খবরে বলা হয়েছে- ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ইথিক্যাল অনুমোদন চেয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত তা অনুমোদন করা হয়নি। বিএমআরসির সভায় বলা হয়েছে- ‘বঙ্গভ্যাক্স নয়, দেশে করোনার টিকা অনুমোদনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’- এ আবার কেমন কথা?

বিএমআরসি-র ইথিক্যাল কমিটির প্রধান ড. সালেহা খাতুন জানান, ‘প্রটোকলে তারা ইঁদুরের ট্রায়ালের ডাটা জমা দিলেও বানরের উপর ট্রায়ালের বিষয়ে কোনো ডাটা জমা দেয়নি। তারা সাংবাদিকদের বলেছেন, এ ট্রায়ালের প্রয়োজন নেই।’

বানরের উপর পরীক্ষার যে প্রয়োজন নেই, তাতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলে দিয়েছে। প্রশ্ন তো করতেই হয়, বিচারকের চেয়ারে বসে তিনি তা জানবেন না কেন? আর না জানলে চেয়ারে বসে থাকার প্রয়োজনই বা কোথায়?

পাঁচ মাস ধরে তারা যে কোনো মিটিংই করেননি– তা ডা. সালেহা খাতুনের ভাষণে প্রমাণিত হয়েছে। ভাষণটি প্রায় সব টিভি মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ডা. সালেহা খাতুন বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে তারা প্রটোকল জমা দিলে আমরা সেগুলো জাস্টিফাই করে অনেকগুলো প্রশ্ন করেছিলাম। তারা তার যথাযথ উত্তরসহ নতুন প্রটোকল দেননি। এছাড়াও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে জানুয়ারিতে টিকা অনুমোদন বন্ধ রাখা হয়।’ আর এখানেই মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন– ‘কে এই হাইকমান্ড? কার নির্দেশে দেশের গবেষণাকে. দেশের সৌভাগ্যকে ঠেকিয়ে দেয় শুধু ব্যক্তিস্বার্থে- কিসের জন্য? এসব তথ্য বের করা কি খুবই কষ্টকর? ডা. সালেহা খাতুনের প্রশ্নের উত্তরে ড. মহিউদ্দিন বলেন, তাদের প্রশ্নগুলোর যথাযথ রেফারেন্সসহ জাস্টিফাই করে উত্তর দিয়েছি ১৭ ফেব্রুয়ারি। আমাদের রেসপন্স ঠিক আছে কিনা বা তারা সেটিস্ফাইড কিনা, তাদের প্রতিউত্তর না পেলে আমরা কিভাবে বুঝব?’

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক ড. মহিউদ্দীন বলেছেন, ‘ সজঘঅ (এম.আর.এন.এ) ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বানরের ওপর ট্রায়াল বা ডাটার প্রয়োজন নেই। আমেরিকার এমআরএনএ ভ্যাকসিন মর্ডানা এবং ফাইজারের ভ্যাকসিনগুলো কিভাবে ডেভলাপ এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছে এবং কোন পর্যায়ে কোন অ্যানিমেলের উপর ট্রায়াল করেছে, আমরা তা রেফারেন্সসহ জমা দিয়েছি।’

অবস্থাদৃষ্টে বলা যায়- এক অশুভ শক্তি কাজ করছে এর পেছনে। তবে এক নয়, অনেক। এখানে উল্লেখ করতে হয়, প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের আবিষ্কারক ‘বায়োএনটেক’। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেয় জার্মান সরকার। প্রতিষ্ঠাতা ও গবেষক উগার শাহিনের নাম এখন বিশ্বজুড়ে। ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকাসিন এখন বিশ্ব কূটনীতির বড় শক্তি হিসাবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। একই প্রযুক্তির মেসেঞ্জার আর.এন.এ (সজঘঅ) ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’। বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ঠাঁই হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রক্রিয়াধীন ভ্যাকসিন তালিকাতেও। আর নিজ দেশে তিন মাসের মধ্যে ফলাফল জানানোর কথা থাকলেও, বিএমআরসি ৫ মাসেও ফলাফল জানায়নি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, ‘দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কার সফল হলে নতুন উচ্চতায় উঠত বাংলাদেশ। সংকটের এ সময় হয়রানি নয়, নানাভাবে সহায়তা দরকার ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাহার বলেছেন, ‘অনুমতি পেলে সফল হবে বঙ্গভ্যাক্স। আধুনিক গবেষণায় তার প্রমাণ রয়েছে।’

শুভবুদ্ধি সম্পন্ন, দেশপ্রেমিক সব মানুষ চায় করোনা থেকে মুক্তির জন্য দেশের গবেষকদের পাশে সরকার এগিয়ে আসবে। এই মৃত্যুর মিছিল থামাতেই হবে। শেষ করতে চাই দেশপ্রেমের উদাহরণ দিয়ে। কিওরভ্যাক নামে জার্মানির একটি ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সের দুই সপ্তাহ পরে আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিল- সে দেশের সরকারের সহযোগিতায় ভ্যাকসিনটি এরই মধ্যে হিউম্যান ট্রায়ালের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। কিন্তু বঙ্গভ্যাক্স এখনো হিউম্যান ট্রায়ালের মাত্র প্রথম ধাপ শুরু করার আবেদন করেছে। কিন্তু এই অপদার্থ, অর্থলোলুপ, দেশপ্রেমশুণ্য, অমানবিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বোপরি সরকার– তারা যে, দেশের স্বার্থ ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন, তার নিশ্চয়তাটুকু কোথায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published.