বঙ্গবন্ধু হত্যাদিবসে সিপিবি’র আলোচনা সভা- ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ’ বাস্তবায়নের দাবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম হত্যাদিবসে সিপিবি’র আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘাতকদের বিচার হলেও এ ঘটনার সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হয়নি। নেতৃবৃন্দ সকল ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানান। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে আলোচনা সভা আজ বিকালে মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সিপিবি’র সহ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষী চক্রবর্তী, সদস্য অধ্যাপক এম এম আকাশ, সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ১৫ই আগস্ট হত্যার পর তাঁর নীতি-আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার অর্থ তাঁকে দ্বিতীয়বার হত্যা করা। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণ দাঁড়িয়েছে- ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি’।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে বুঝেন ‘৭১ এর নয় মাসের যুদ্ধ। কেউ বুঝেন পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরের সংগ্রাম। কিন্তু আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন এর ইতিহাস রচনাকালে বৃটিশবিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতাকামীদের বাদ দেয়া যাবে না। আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে দেখতে হবে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানী শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও ‘৭১ এর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের সামগ্রিকতায়।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় অগ্রগতির পথকে উল্টিয়ে দিয়েছিল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। দেশ এখনো সেই উল্টো পথেই চলছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ’ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.