বগুড়ায় ক্ষেতমজুর সমিতির সুঘাট ইউনিয়ন কমিটি গঠন

বগুড়ায় বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি’র সুঘাঠ ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়েছে। সর্বসম্মতি ক্রমে আব্দুর রাজ্জাক মুন্সিকে সভাপতি, কমর উদ্দিন ও রুবিয়া আক্তারকে সহ-সভাপতি এবং রবিউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি পরিচিতি সভা উপলক্ষে গতকাল (০৩ আগস্ট), বুধবার বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি’র সাঁতরা গ্রাম কমিটি সভাপতি মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন ক্ষেতমজুর নেতা তোফাজ্জল হোসেন।

সভায় শুরুতে সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটি বিল্পবী সাধারণ সম্পাদক, সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র কমরেড আমিনুল ফরিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বগুড়া জেলা কমিটি সদস্য এবং বগুড়া সদর উপজেলা কমিটি সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লা, বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড হরি শংকর সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিমাই ঘোষ, শ্রীকান্ত মাহাতো, সামাদ প্রাং,সাজাহান আলী সাজা,সোহেল রানা, ক্ষেতমজুর নেত্রী শিরিন আক্তার, আরজিনা আক্তার রুবিয়া আক্তার, রবিউল ইসলাম প্রমুখ

সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীন মজূর, স্বাধীনতা ৫৩ বছর পার হলেও তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ক্ষেতমজুদের সারা বছর কাজ ও জীবন ধারণের মতো মজুরি নিশ্চয়তা নেই, শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে  ভিটে-মাটি হারিয়ে ক্ষেতমজুররা এখন নিঃস্ব ভুমিহীন। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার নিশ্চয়তা নেই। এনজিও ঋণের কিস্তি  ক্ষেতমজুরদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সবমিলিয়ে শোষন-জূলুম-অত্যাচারের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে আছে গরীব মানুষের জীবন।  গ্রামীন মজূর সহ গরিব মানুষের আত্মত্যাগ লড়াই আর রক্তের বিনিময়ে কর্মসৃজন কর্মসূচি খাসজমি,টিআর,বিজিবি, দুঃস্থ ভাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্প আদায় করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তূ গরীবের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ প্রায়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য, অপ্রতুল বরাদ্দ ও লুট করে নিয়ে যাচ্ছে কাউকে চেয়ারম্যান মেম্বার সরকারি দলের মাস্তান সরকারি কর্মকর্তারা, একদিকে গরিব মানুষের বরাদ্দ লুট হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে লুটপাটকারীরা।ব্যাংক থেকে শুরু করে খনির কয়লা পাথর ও এখন লুট হয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান দুর্বিষহ অবস্হা আর অনিশ্চিত জীবন থেকে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুররা মুক্তি চায়। তারা ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে চায়। কিন্তু অধিকার আদায়ে ন্যায়সংগত আন্দোলন দমন করা হচ্ছে, নিপীড়ন সন্ত্রাসের মাধ্যমে এমনকি কথা বলার অধিকার ওকেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এই অবস্থা চলতে পারে না। দুর্নীতি, লুটপাট সন্ত্রাস জুলুমের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আসুন শোষণ বৈষম্য গণবিরোধী তৎপরতা আর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। অধিকার আদায়ে আন্দোলন তীব্র করার মধ্য দিয়ে শোষিত বঞ্চিত মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে জোরদার করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে সর্বসম্মতি ক্রমে সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মুন্সি, সহ-সভাপতি কমর উদ্দিন, রুবিয়া আক্তার এবং রবিউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

প্রধান অতিথি নবনির্বাচিত কমিটি সকল সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান, এবং নবনির্বাচিত কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি রেজিস্ট্রেশনের সনদ প্রদান করেন।

ইউরিয়া সারের দাম কমানোর দাবিতে কৃষক সমিতির বিক্ষোভ  

ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল (০৩ আগস্ট), বুধবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে বগুড়ার ঐতিহাসিক সাতমাথায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী শেখ, যুব ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক শাহনিয়াজ কবির খান পাপ্পু, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি ছাব্বির আহম্মেদ রাজ প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ রহমান।

সমাবেশ থেকে সারের দাম প্রতি কেজি ৬ টাকা বাড়ানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং প্রকৃত কৃষকের কাছে সরাসরি ভেজাল মুক্ত সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং অবিলম্বে শস্যবীমা চালুর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শুরুর পূর্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.