বকেয়া বেতন ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক সমাবেশ

শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও জুলুমের কারণে সারাদেশে শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে। তা বিক্ষোভে রূপ নিলে সামাল দেয়া যাবে না। শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন, দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

আজ (২৩ মার্চ) মঙ্গলবার ফতুল্লার সেহাচর এলাকায় অবস্থিত বে-আইনিভাবে বন্ধ ঘোষিত সোয়েটার কারখানা ন ষ্টোন নিটওয়্যার লিঃ-এর শ্রমিকরা সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এসব দাবি সম্বলিত বক্তব্য উপ্সথাপন করেন।

কারখানার শ্রমিক চন্দ্র শেখড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র কেন্দ্রিয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা, জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস, সদস্য নূর ইসলাম আক্তার, শ্রমিক সবুজ ও রুনু রানী প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার নিজেকে শ্রম বান্ধব বলে গলাবাজি করে অথচ শ্রমিকের স্বার্থ উপেক্ষা করে তারা মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

করোনার দুঃসময়ে শ্রমিকরা মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে শিল্প কারখানায় উৎপাদন করেছে, দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছে। তাদের এই অবদানের জন্য মালিক ও সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেয়া উচি কিন্তু তা না করে মালিকরা উল্টো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে কারখানা বন্ধ করে দিয়ে চরম বিপদে ফেলে দিচ্ছে। ছাঁটাই-নির্যাতন, দমন-পীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে- বলেও শ্রমিকরা দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্টিচওয়েল ও অ্যাপারেলস স্টিচ এর শ্রমিকরা তাদের ৪ মাসের বকেয়া বেতন আদায়ে ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে নামলে মালিক ও সরকার একাট্টা হয়ে কি নির্দয়ভাবে পুলিশ দিয়ে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। গুলি করে অনেক শ্রমিককে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে।

এসব নজির উপর উপস্থাপন করে শ্রমিকরা হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, এসব বন্ধ করতে হবে। নাহলে শ্রমিক বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, শ্রমিকদের দাবি, গ্রীন ষ্টোন সোয়েটার কারখানার মালিক শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত ১০/১২ বৎসর যাবৎ মনগড়াভাবে কারখানা পরিচালনা করে আসছে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও আইনি কোন সুযোগ সুবিধা দেয় না। বারো মাসই নানা বাহানায় বেতন-ভাতা নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। ফ্রেব্রুয়ারি মাসের বেতন বকেয়া সহ অনেকের ২/৩ মাস করে বতেন বকেয়া পড়েছে পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এখন আবার কারখানা বন্ধ করে দিয়ে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনি পাওনা থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

মালিকের এই অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনগত পাওনাদী পরিশোধের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.