ফ্রান্সে ‘পরিবেশ রক্ষা’কে সংবিধানে ঢোকাতে গণভোট

‘পরিবেশ রক্ষা’র বিযয়টি সংবিধানে রাখা হবে কি হবে না, সেটি নিয়েই ফ্রান্সে গণভোট হবে। সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর।

তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে তিনি সমানে অবহেলা করেছেন। তার খেসারত দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে।

এবার সেই প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁই পরিবেশ রক্ষাকে সংবিধানে ঢোকাতে চান। সে জন্য তিনি গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আজ (১৫ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার ডয়চে ভেলে বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাক্রোঁ স্বীকার করে নিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য ফ্রান্স প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। সিটিজেনস ক্লাইমেট কাউন্সিলে তিনি বলেছেন, “আমাদের কি আরো কিছু করতে হবে? উত্তর হলো, হ্যাঁ। আমি চাই জীববৈচিত্র, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করার বিষয়টি সংবিধানের এক নম্বর অনুচ্ছেদে রাখা হোক। সে জন্য প্রাথমিক ভোট ও গণভোট জরুরি”।

ম্যাক্রোঁর ঘোষণা, “আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দ্রুত এ নিয়ে কাজ করতে হবে”।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের উপর পরিবেশ রক্ষার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রবল চাপ তৈরি করেছে তাঁর দলের ভিতরেই বাম মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠীগুলি। তাঁদের মত হলো, ম্যাক্রোঁ পরিবেশ রক্ষার জন্য ও জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অবিলম্বে সেটা তাঁর নেয়া দরকার।

২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে এখন গ্রিন পার্টিও অত্যন্ত সক্রিয়। তারা ম্যাক্রোঁর সমর্থকদের পাশে পেতে চাইছে। এভাবেই তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে চায়। সেটাও ম্যাক্রেঁর চিন্তার কারণ। সে জন্য তিনি পরিবেশ রক্ষা নিয়ে উদ্যোগী হতে চান।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ইইউ নেতারা ঠিক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ অন্তত ৪০ শতাংশ কমানো হবে। ফলে সবদিক থেকেই ম্যাক্রোঁর উপর চাপ তৈরি হয়েছে। তারই ফল হলো, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে সংবিধানে রাখতে গণভোটের ঘোষণা।