প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সিপিবি’র পদযাত্রা

ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় রুখতে এবং রুটি-রুজি, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে পদযাত্রা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ফতুল্লা থানা কমিটি।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় ফতুল্লা ইসদাইর বাজার থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়।

পদযাত্রার পথে পথে ইসদাইর বাজার, বুড়ির দোকান, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, কাঠের পুল ও রামারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এই সকল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি কমরেড রনজিত দাস।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সদস্য বিমল কান্তি দাস, দুলাল সাহা, আব্দুস সালাম বাবুল, ফতুল্লা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সদস্য এম.এ. শাহীন, নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

সামাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের চারিপাশে প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। লুটেরা ধনিক শ্রেণীর অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, অতিরিক্ত মুনাফার লোভ, সরকার ও রাষ্ট্রের ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও লুটপাটের কারনে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীতে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। শুধুমাত্র সুপেয় পানি ও অক্সিজেনের অভাবেই প্রাণীজগৎ শেষ হয়ে যাবে। প্রচলিত শোষণমূলক লুটেরা ধনবাদী ব্যবস্থা প্রকৃতি ও মানবজাতিকে আর রক্ষা করতে পারছে না। তাই শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলে লুটেরা ধনিকদের উচ্ছেদ করেই প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধুমাত্র ডিএনডি বাঁধের ভেতরের পরিবেশটুকুই রাষ্ট্র ও সরকার রক্ষা করতে পারছে না। একটু বৃষ্টি হলেই রান্নাঘর পর্যন্ত পঁচা পানিতে তলিয়ে যায়। খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করতে পারে না। ড্রেন, ভাঙা রাস্তা মেরামত করতে পারে না। শিল্প বর্জ্য ও তার কেমিক্যাল মেশানো দুষিত পানিতে খাল-বিল নদী-নালার পানি পঁচে গেছে। যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ইটিপি ব্যবস্থা ব্যবহার করে না প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। মশা-মাছি-আবর্জনা ময়লা ও দুর্গন্ধে সবসময় বাতাস দুষিত থাকে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় সরবরাহ থাকে না।

সামাবেশে নেৃতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের মধ্যে আর্থিকভাবে সবচেয়ে ধনী জেলা। কিন্তু এই জেলাতে সবচেয়ে বেশি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। খুন-ধর্ষন অপহরনের ঘটনাতো আছেই। শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরীসহ জেলার সকল নদী ও খাল বিলের পানি ইতিমধ্যে পঁচে গেছে। কৃষিজমি ও বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সিমেন্ট ও ডাইং কারখানাসহ এমন কিছু নতুন নতুন ক্ষতিকারক শিল্প অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যা পানি ও বায়ু দুষন বাড়িয়ে তুলছে। ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী যে প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে তাতে জনগন এখনও আশার আলোর মুখ দেখছে না।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, লুটেরা ধনিকদের এই অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, ঘুষ-দুর্নীতি ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার জন্য মেহনতি মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.