প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ প্রয়াত

বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ প্রয়াত হয়েছেন।

তিনি কোভিড-১৯ পরবর্তী জটিলতা নিয়ে কলকাতা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

তাঁর পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই বলছে, রবিবার মধ্যরাতের কিছু আগে একটি বড় ধরণের ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রখ্যাত এই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে ভারতের আনন্দবাজার লিখেছে, “গত কয়েক দশকে বিশ্ব সাহিত্যে ‘ইয়ং অ্যাডাল্ট’ নামে এক বিশেষ ধারা পরিলক্ষিত। এই ধরনের সাহিত্য ‘ইয়ং’-দের ‘অ্যাডাল্ট’ হয়ে ওঠার সহায়ক। আবার পরিণত পাঠকও কৈশোরে ফিরে যেতে চাইলে এমন সাহিত্যে ডুব দিতে পারেন। বাংলায় এমন ধারার অস্তিত্ব সে অর্থে বিরল। যে ক’জন হাতে গোনা সাহিত্যিক সেই রাস্তায় হেঁটেছেন, বুদ্ধদেব তাদের মধ্যে অন্যতম।”

বুদ্ধদেব গুহ ‘মাধুকরী’-সহ বেশ কিছু পাঠকপ্রিয় উপন্যাসের লেখক।

মাধুকরী ছাড়াও তার পাঠকপ্রিয় উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘কোয়েলের কাছে’ ও ‘সবিনয় নিবেদন’।

বুদ্ধদেব গুহর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ ‘জঙ্গল মহল’। এরপর ‘মাধুকরী’, ‘কোজাগর’, ‘অববাহিকা’, ‘বাবলি’, ‘বাসনাকুসুম’, ‘পরিযায়ী’, হলুদ বসন্ত, খেলা ঘর, নগ্ন নির্জন, জলছবির মত বহু উপন্যাস তিনি উপহার দিয়েছেন পাঠকদের।

পাশাপাশি কিশোর সাহিত্যেও ছিল অবাধ বিচরণ। বহু কিশোর-কিশোরীর কাছে এখনও প্রিয় তার সৃষ্ট ‘ঋজুদা’ বা ‘ঋভু’ চরিত্র।

আনন্দ পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বুদ্ধদেব গুহ।

তার লেখা ‘বাবা হওয়া’ এবং ‘স্বামী হওয়া’কে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে পুরস্কারজয়ী বাংলা সিনেমা ‘ডিকশনারি’।

উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ২৯শে জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মি. গুহ। তাঁর শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বরিশাল ও রংপুরে।

তাঁর শৈশবের নানা অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর লেখালেখিতে উঠে আসে। তাঁর লেখা উপন্যাস ও ছোটগল্পগুলো ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

বুদ্ধদেব গুহ পেশায় ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। এছাড়া ধ্রুপদী সঙ্গীত ও ছবি আঁকায় দক্ষতা ছিল তার।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫। তিনি দুই কন্যা রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ঋতু গুহ ২০১১ সালে মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.