গত ১০ বছরে ‘পুড়ে মারা গেছে’ ৬৯৭ জন শ্রমিক

গত দশ বছরে পোশাক খাতের বাইরে শিল্প কারখানায় ৪৫৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬৯৭ জন শ্রমিক পুড়ে মারা গেছে।

বেসরকারি সংস্থা সেইফটি অ্যান্ড রাইটস’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত সপ্তাহে নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের একটি কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ৫২ জন শ্রমিক মারা গিয়েছিল।

মৃত্যুর হিসেবে গত এক দশকে তাজরীন ফ্যাশনসের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় শিল্প কারখানার অগ্নি দুর্ঘটনা হল হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানার আগুন।

বিবিসি বাংলা (অনলাইন)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসের আগুন এবং পরের বছর রানা প্লাজা ধ্বসের পর পোশাক খাতের কারখানাগুলো নিরাপত্তা বাড়াতে নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। এক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর মালিকদের সঙ্গে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স এবং কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর একত্রে কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের পর থেকে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং মৃত্যু অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু একই সময়ে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের বেশিরভাগ ঘটনাই পোশাক খাতের বাইরে শিল্প কারখানায়।

এসকল দুর্ঘটনাকে অনেকেই ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

কেননা, দেশের বেশিরভাগ কারখানাতেই কাজের কোন পরিবেশ থাকে না। থাকে না কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

এছাড়াও কোন কারখানাতেই অগ্নি দুর্ঘটনায় জীবন রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে শ্রমিকদের জন্য কোনো মহড়া হয় না, থাকে না ফায়ার এলার্ম বা বিকল্প সিঁড়ি।

আর একসাথে এতবেশি শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, আগুন লাগার পরও ওই শ্রমিকদের বের হতে দেয়া হয় না।

সম্প্রতি হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সেখানে কাজের পরিবেশ নিরাপদ ছিল না। কিছুদিন আগেও ওই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কিন্তু তারপরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কোনো কাজ হয়নি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য শিল্প কারখানায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শ্রমিকদের কাজ করতে হয় বলেই অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে এসব কারখানা নিয়মনীতি মানছে কিনা – সেটি নজরদারি কতটা হচ্ছে, সে প্রশ্নও উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.