পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় চট্টগ্রামে সমাবেশ

গুলি করে শ্রমিক বিক্ষোভে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বর্বর আক্রমণ ও হত্যার ঘটনা নির্দেশ করে সরকার ন্যূনতম গনতান্ত্রিক দাবির কথাও শুনতে চায় না।

গতকাল চট্টগ্রামে বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে ৫ জন শ্রমিক হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, এর আগেও ২০১৬ সালে পুলিশের গুলিতে ৪ জন গ্রামবাসী নিহত হয়। সেসময় এই একই প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান করার জন্য অনেকের জমি জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। এই সংঘটিত হত্যাকান্ডগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, এই রাষ্ট্র -সরকার পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষায় এতটা মরিয়া যে, মানুষকে বিনা দ্বিধায় হত্যা করতে পারে।

গতকাল (১৭ এপ্রিল) শনিবার বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বাম জোটের জেলা সমন্বয়ক ও সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি,বাসদ(মার্কসবাদী) জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ,বাসদ জেলা কমিটির সদস্য রায়হান উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাঁশখালিতে এসআলমের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের দাবি ছিল সামান্য তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ, ইফতার ও সেহেরির সময় বিরতি, পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থার উন্নতি। আলাপআলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ  সমাধান না করে আজ নির্বিচারে গুলি করে শ্রমিক হত্যার দায় এস আলম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সরকারকে নিতে হবে।”

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বাঁশখালিতে শ্রমিক হত্যাকান্ডের বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও হত্যাকারীদের বিচার,নিহতদের ও আহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান,আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করার জোর দাবি জানান।

সমাবেশের পূর্বে বাম জোটের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত শ্রমিকদের দেখতে যান এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.