পুলিশি বাধায় শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ

গাজিপুরের স্টাইল ক্রাফট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা পরিশোধে দুই বার চুক্তি ভঙ্গের প্রতিবাদে শ্রমিকরা আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভে কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে জানা যায়। মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পর প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।

ঢাকার শ্রম ভবনে শ্রমিকদের লাগাতার অবস্থানের দশম দিনে আজ (৪ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকরা।

শ্রম ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচির শুরুতেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাধা প্রদান করে। এসময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে শ্রমিকদের মিছিল পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব অতিক্রম করে কদমফুল ফোয়ারার সামনে গেলে দ্বিতীয় দফা পুলিশ বাধা দেয়। শ্রমিকরা সেখানেই সড়কে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড এবং ইয়ং ওয়ান লিমিটেড কারখানা দুটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নানাভাবে বেতন ভাতা এবং ঈদ বোনাস না দিয়ে শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। যার ফলে উক্ত কারখানার ৪২৪৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী আজ এক চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। কারখানার শ্রমিকদের ছয় মাসের এবং কর্মচারীদের নয় মাসের বেতন বকেয়া। ছয় মাস বেতন না পেয়ে স্বল্প বেতনের দরিদ্র জীবনযাপনকারী শ্রমিকদের কিভাবে দিন অতিবাহিত হচ্ছে সেটি অবর্ণনীয়।

আন্দোলরত শ্রমিকরা গত ২৬ অক্টোবর থেকে শ্রম ভবনে পাওনার দাবিতে দিন-রাত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

বক্তারা আরো বলেন, গত জুলাই মাস পর্যন্ত গাজীপুরে কারখানার সম্মুখে দীর্ঘদিন আন্দোলন পরিচালনা করা হয়েছে। সেই আন্দোলনের ফলে কখনো লিখিত ও মৌখিকভাবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেট্রোপলিটন পুলিশ, শিল্প পুলিশসহ চুক্তি হয়। মালিক সেই চুক্তি প্রতিবার ভঙ্গ করে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে শ্রমিকরা গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে। সে ঘেরাও এর ফলে গত ৭ আগস্ট শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিএমইএর সভাপতি এবং শমিক নেতৃবৃন্দসহ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুসারে গত ২৫ শে আগস্ট বকেয়া বেতন এবং একটি ঈদ বোনাস পরিশোধ করে কারখানা চালু করার কথা ছিল। এই সর্বোচ্চ পর্যায়ের চুক্তির বিষয়েও মালিক কোন তোয়াক্কা করে নাই। চুক্তি অনুসারে ২৫ আগস্ট পাওনা পরিশোধ করা এবং কারখানা খুলে দেয়া হয় নাই।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভাতেও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গাজীপুরের মেয়র, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, আইজি, ডিজি, বিজিএমইএর সভাপতি, ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী গাজীপুরের মেয়রকে পাওয়ার অব এটর্নি দেয়া হয়। যাতে প্রয়োজনে মালিকের সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা দেয়া যায়। শ্রমিকদেরকে বকেয়া বেতন এবং সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধর কথা উল্লেখ থাকে। সেই চুক্তি অনুসারে গত ১৩ অক্টোবর এর মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার কথা। এবারেও মালিক এই চুক্তির কোন তোয়াক্কা করে নাই। গাজীপুরের মেয়র এই বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই ।

এই চুক্তি ভঙ্গ করার ফলে গত ২৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। দশদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও পাওনা পরিশোধের কোন উদ্যোগ সরকার কিংবা মালিকপক্ষ গ্রহণ করে নাই।

সমাবেশ থেকে বারবার চুক্তি ভঙ্গ করায় মালিক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। একইসাথে প্রয়োজনে কোম্পানির সকল সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের ছয় মাসের বকেয়া বেতন এবং আইনানুগ সকল পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.