পরিত্রাণের পথ ও পাথেয়র খোঁজে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে নামা দরকার: কমরেড খালেকুজ্জামান

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি, মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি, বামপন্থী ও বিপ্লবীদের করণীয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে সাপ্তাহিক একতায় প্রকাশিত বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এর সাক্ষাৎকারটি ‘একটা লাইভ টিভি’র অনলাইন পাঠদের জন্য প্রকাশ করা হলো:

একতা: মহামারী আকারে বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির কারণ কি সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক? নাকি এর পেছনে ‘মানুষ্য সৃষ্ট’ কারণও আছে? থাকলে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক কী কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন?

কমরেড খালেকুজ্জামান : প্রকৃতির প্রাকৃতিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার প্রভাব প্রাণীকূলের উপর যেমন যেমন পড়ে, তেমন তেমন করেই প্রাণীদের বাঁচা-মরার ও টিকে থাকার শর্ত তৈরি হয়। কিন্তু সমাজবদ্ধ মানুষের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম রয়েছে। কারণ চিন্তা করার ক্ষমতাধারী মানুষ উৎপাদনমুখী শ্রম ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিস্থিতির ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিংবা মোকাবেলা করে তার অস্তিত্ব রক্ষা ও টিকে থাকার সামর্থ ও শর্ত তৈরি করতে পেরেছে। যে কারণে আদিম বন্যদশা থেকে মানুষ আজকের সভ্যতার এই স্তরে উঠে এসেছে। তবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের বাস্তবতায় সমাজ বিকাশের গতিময়তার ছন্দে তাল মিলিয়ে যতো বেশি সামাজিক ভারসাম্য , সংহতি ও সমতা ভিত্তিক মেলবন্ধনের শক্তি তৈরি হয় ততোটাই মানুষের বাঁচার ও টিকে থাকার শর্ত কার্যকারিতা পায়। যতো বেশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অসাম্য-বৈষম্যমূলক নীতি শাসন-প্রশাসন, সমাজ-সংস্কৃতিতে আসন গেড়ে থাকে ততোই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে অসহায়ত্ব ফুটে উঠে। ঝড়-ঝঞ্চা, প্লাবন, ভ‚মিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, খরা-দুর্ভিক্ষ, রোগ-বালাই, মহামারী কত কিছুই তো মানুষ আদিকাল থেকে মোকাবেলা করে চলেছে। প্রকৃতি পরিবেশকে রক্ষা করার সাথে মানুষসহ প্রাণীক‚লের রক্ষা অভিন্ন যোগসূত্রের সন্ধানও মানুষ নিত্য নতুন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মাধ্যমে পাচ্ছে। এবারের করোনা ভাইরাসের আক্রমণ বিশ্বের মানচিত্র ও চালচিত্রকে একভাবে হাজির করেছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ ধনী ও সামরিক মহাশক্তিধর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা সারা দুনিয়াকে তছনছ করার ক্ষমতা রাখে অথচ করোনার কাছে কতোই না অসহায়। সর্বেচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা তাদের দেশে। ইউরোপের ধনী পুঁজিবাদী দেশগুলোর কাতর দশাও দেখছে মানুষ। কিন্তু আমেরিকার মাত্র ৬০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত সমাজতান্ত্রিক কিউবা তুলনামূলক খুবই দরিদ্র হয়েও নিজের দেশের জনগণের সুরক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের দেশে দেশে চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক নীতি ব্যবস্থার প্রশ্নতো স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

একতা: প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের ও আমাদের দেশের প্রস্তুতি কেমন ছিল? আমাদের দেশে সরকারি কোন কোন অব্যবস্থাপনাকে আপনার ক্ষমার অযোগ্য মনে হয়েছে?

কমরেড খালেকুজ্জামান : ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে, চীনে প্রথম এ ভাইরাসের আক্রমণ-সংক্রমণ শুরু হয়। এই অপরিচিত অপ্রত্যাশিত প্রাদুর্ভাবকে চীন যেভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছিল, আমেরিকা কিংবা ইউরোপের অনেক দেশই তা পারেনি। এ যাবতকাল রোগ মহামারী সংক্রমণ ও বিস্তারের যত তথ্য ছিল সব ছাপিয়ে এর দেশ-মহাদেশ ব্যাপী বিস্তার ক্ষমতা ও ভয়াবহতা জানা হয়ে গিয়েছিল জানুয়ারি ২০২০ এর মধ্যেই। তখন আমাদের দেশের শাসনকর্তাদের মনযোগ অন্যত্র নিবদ্ধ ছিল। এদের গলাবাজির গলা যত লম্বা, কাজের হাত ততই ছোট। এরা প্রতিরোধমূলক আয়োজন ও প্রস্তুতি গ্রহণের চেয়েও মৃত্যুর সংখ্যা দেখে কাজে নামার অপেক্ষায় ছিলেন। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি চলে গেল কর্তাব্যক্তিদের নানা বোল চালে আর দৈবকে সাফল্য হিসাবে দেখাতে দেখাতে। মার্চ মাসে যখন মরা শুরু হলো তখন তোড়জোড় লেগে গেল অপরিকল্পিত অস্থিরতায়। অতিবৃদ্ধ ও নানা রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের মতো বহুদিনের অযত্ন, অবহেলায় ভঙ্গুর দশায় পতিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও তেমনি অসহায়ত্বের চেহারা নিয়ে হাজির হলো। এ ভাইরাস দেশের ভিতর থেকে উদ্ভ‚ত ছিল না, ছিল বিদেশ থেকে আগত। ফলে শুরুতেই বিদেশ থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনকারীদের গুদামজাত মার্কা ব্যবস্থা করা আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ঢালাওভাবে ছেড়ে না দিয়ে যদি সর্বাত্মক যত্নে ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনায় বিহিত করা যেতে তাহলে প্রথমেই রোগ বিস্তার সন্তোষজনকভাবে ঠেকানো যেতো। তা করতে না পারায় রোগ বিস্তারের দরজা খুলে গেল। তারপর বাংলাদেশের বাস্তবতা খেয়ালে না রেখে শেখানো বুলির মতো ‘কোয়ারেন্টাইন’, ‘লক ডাউন’ ইত্যাদি বুলি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারল না। কুয়াশায় আগন্তুকের চেহারা দেখার মতো অস্পষ্ট থেকে গেল। আর সচেতনতা, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা, দায়িত্ব ও কর্তব্যকরণীয় বোধের বদলে ভুতের ভয় এর মতো ভীতি ছড়িয়ে পড়লো। কিন্তু পথ ও কর্মপন্থা সুনির্দিষ্ট করতে না পারলে শুধু ভয়-ভীতি জীবন প্রবাহের সনাতন স্বাভাবিক গতিধারা আটকে দিতে পারে না, আর মানুষও রাস্তায় নামলো নিত্য অভ্যাস ও প্রয়োজনের তাগিদে। দোষ দেয়া হলো জনগণের অসচেতনতার। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের যথাসময়ে মানসম্মত নিরাপত্তা উপকরণ সরবরাহ কিংবা বিশেষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা ছিল না বলা চলে। হাসপাতালগুলোকে সাধারণ ও বিশেষ রোগ চিকিৎসার আদলে প্রয়োজনের উপযোগী করার কাজও বিলম্বিত ও অগোছালো হতে থাকে। রোগ শনাক্তকরণ সামগ্রী সংগ্রহ, লোকবল ও রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া ছিল অপ্রতুল ও অনুপযোক্ত। পুলিশেরও নিজস্ব সুরক্ষা ও ব্যতিক্রমী সেবা কার্যক্রম পরিচালনার ট্রেনিং কিংবা কার্যকর নির্দেশনা ছিল না। সামাজিক দায়িত্ব ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্বের বদলে ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখার এক অদ্ভুত কথা চালু করা হলো। ঢাকা শহরেই প্রায় ৪০ লক্ষ বস্তিবাসীদের অনেকেই এক বাসায় ৮/১০ জনও বাস করে। তাদের সুরক্ষা বিধি, খাদ্য খাবারের ব্যবস্থাসহ সমাজের নানা অংশের নানা স্তরের মানুষদের অবস্থা জেনে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য উপাত্তও ছিল অনুপস্থিত নয়তো ভাসাভাসা। এর মধ্যেই সরকারি প্রতিশ্রুতি বাড়তে থাকলো, প্রাপ্তির সাথে যার সঙ্গতি থাকলো না। সরকারি লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ চলে গেল কারখানা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবসায়ীদের পকেটে। ত্রাণ সামগ্রী চুরি ও লোপাট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো শাসক দল ঘনিষ্ঠ লোকেরা। যে কারণে ১০ টাকা সের দরে চাল বিক্রির ওএমএস বন্ধ হলো আর ৬৪ জেলার দায়িত্ব আমলা সচিবদের হাতে ন্যস্ত হলো। দুর্নীতিগ্রস্থ দলীয় ব্যবস্থা, অকার্যকর আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হলো। সাড়ে ছয় কোটি শ্রমিক, আর আড়াই কোটি কৃষিজীবী ও কৃষি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও আশ্বাসই হলো সার। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মালিকী মুনাফার চক্করে একবার ছুটি আবার কাজে যোগদানের তাগিদ, আবার ছুটি আবার কাজে যোগদানের ঘোষণা শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি ও করোনা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। শ্রমিকদের পুরো মজুরি না দেয়া, ছাঁটাই ইত্যাদি সবই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটতে দেয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যহানি ও জীবনহানির চেয়েও অধিকমাত্রায় রোগ বিস্তার ও জীবনহানির দায় সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

একতা: এমন সংকটকালে বামপন্থী ও বিপ্লবীদের করণীয় কী? সরকারের অযোগ্যতার সমালোচনা করার পাশাপাশি তাদের আরও কিছু করার আছে কি? সেসব কতোটা আপনারা করছেন?

কমরেড খালেকুজ্জামান : বামপন্থী বিপ্লবীদের জনগুরুত্বের প্রশ্নে কোন পরিস্থিতিতেই চোখ বন্ধ করে রাখার সুযোগ নেই। সাহসী প্রত্যয় ও সংগ্রামী মনোভাব জনমনে জাগিয়ে রেখেই সর্বোচ্চ সাধ্যে জনগণকে সাথে নিয়ে নিজেদের কর্তব্য পালনে ব্রতী হওয়া তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। পাশাপাশি শাসকগোষ্ঠী ও শাসনব্যবস্থার অসঙ্গতি, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি অর্থাৎ গণস্বার্থবিরোধী কাজের উন্মোচন, প্রতিরোধ-প্রতিকার প্রচেষ্টা ও জনমতের চাপ সৃষ্টি করে শক্তি সামর্থের পরিমাপে দাবি আদায় এবং জনগণের চেতনা ও সংঘশক্তি বাড়ানোর কাজ করে যেতে হয়। বাসদ, সিপিবিসহ বামপন্থী সকল প্রগতিশীল দল ও ব্যক্তি কোন সরকারি সহায়তা ছাড়াই শুরু থেকেই সাধ্যমত সচেতনতা সৃষ্টি, স্যানেটাইজার-মাস্ক বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে করা, ত্রাণ তৎপরতাসহ নানামুখী কাজে অংশ নিয়েছে। তাছাড়া বহু গণতান্ত্রিক মানবিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি, সংস্থা, সংগঠনও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। বামপন্থীদের ভ‚মিকা সর্বস্তরের জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। জনগণের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জনগণের সেবার দৃষ্টান্তও স্থাপিত হয়েছে বিশেষ করে এই ঝুঁকিপূর্ণ দুর্যোগের কালে। তাদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, মানবতার বাজার স্থাপন করে বিনামূল্যে চাল, ডাল, তেল, নুন, ডিম, দুধ, তরকারী, সবজিসহ পণ্য বিতরণ, অটো রিকশাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এম্বুলেন্স বানিয়ে রোগী পরিবহন, মৃত ব্যক্তির সৎকার, কমিউনিটি কিচেন করে দুঃস্থ অসহায় মানুষদের খাওয়ানো, ধান কাটতে কৃষকদের সহায়তা ইত্যাদির পাশাপাশি শ্রমিকদের অপরিশোধিত মজুরি আদায়, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ধানের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি, ত্রাণ চুরি-দুর্নীতি বন্ধ ইত্যাদি দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচিও পালন করছে। প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম হলেও বামপন্থীরা উদ্যোগী ভ‚মিকায় ছিল অসামান্য।

একতা: মহামারী মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া যেত কি? তা হলে কী কী সুবিধা হতো, কী কী অসুবিধা ও ঝক্কি এড়ানো যেত?

কমরেড খালেকুজ্জামান: এটা পরিষ্কার ছিল যে এ মহাদুর্যোগ এককভাবে কোন রাষ্ট্র, সরকার বা দলের পক্ষে মোকাবেলা করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সরকার একলা চলো নীতি নিয়ে চলছিল। বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে বার বার আহবান জানানোর পরও সরকার উদ্যোগ নেয়নি। ফলে জোটের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সরকারি দল ও তাদের জোট অনলাইন সভায় যোগ দেবে বলেও আসেনি। তাদের বাইরে প্রায় সকল দলই যুক্ত হয়েছিল এবং সবার পক্ষ থেকে একই মত উচ্চারিত হয়েছিল যে সবার মিলিত উদ্যোগ ও সমন্বিত কাজ এর মাধ্যমে এ মহাদুর্যোগ মোকাবেলা এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগেই তা সর্বোচ্চ ফল দিতে পারে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি শুধু নয়, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও তারা সমন্বয় সাধনে ব্যর্থ হলেন। ফলে এড়ানো যেত এমন বহু ক্ষয়ক্ষতিও রোধ করা গেল না। সকল দল, সংস্থা ও শক্তিসমূহের সমন্বিত কার্যক্রম থাকলে জনগণেরও আস্থা-ভরসা বাড়তো, প্রশাসন-প্রতিষ্ঠানসমূহ অনেক গতি পেত, কার্যকারিতা বাড়তো আর চুরি-দুর্নীতি, অব্যবস্থাও অনেক হ্রাস পেত।

একতা: বৈশ্বিক এ মহামারীর পর, বাস্তব সম্ভাবনার বিবেচনায়, সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে দরিদ্র ও শ্রমজীবীদের স্বার্থে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদে কি কি নীতি-কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন?

কমরেড খালেকুজ্জামান : করোনার ভয়াবহ কাল পার করা পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের বহু কিছু ঢেলে সাজানোর তাগিদ তৈরী হবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সব কিছু যে মাত্রাই হোক্ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াবে। বাংলাদেশেও এর অভিঘাত সর্বমুখী ব্যাপকতা নিয়ে হাজির হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী দারিদ্রের আরও কয়েকধাপ নেমে যাবে। আশু টোটকা যন্ত্রণালাঘব ব্যবস্থা হয়তো নেয়া হবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা কিংবা আরোগ্য লাভের দাওয়াই চলমান ব্যবস্থা কিংবা বিদ্যমান শাসকশ্রেণির কোন অংশের দ্বারাই সম্ভব হবে না। কারণ অবস্থা বদলের জন্য যে ব্যবস্থা বদলের দরকার তা এদের সাধ্যের অতীত। এটা শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতা। ফলে আশু ও দীর্ঘমেয়াদী পরিত্রাণের পথ ও পাথেয়র খোঁজে এখনই বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নামা দরকার। এর সাথে সমাজের বিভিন্ন অংশের চিন্তাশীল, বিশেষজ্ঞ, নানা পেশায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ছাত্র-যুব সমাজের কাছেও গতানুগতিকতার বদলে কার্যকারণ সম্পর্কের নতুন আবেদন আবেগে ও যুক্তিতে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের ব্যর্থতার ও সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের সফলতার কারণ তুলে ধরার বিকল্প নেই।