নোয়াখালীতে ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ মোট ৬ জন গ্রেপ্তার

নোয়াখালির বেগমগঞ্জে মধ্যযুগীয়, বর্বর নারী নির্যাতনের ঘটনায় এক ইউপি সদস্যসহ এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি বাদল এবং ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ দেলোয়ার হোসেন, পূর্ব একলাশপুর গ্রামের নোয়াব আলী বেপারী বাড়ির লোকমান হোসেনের ছেলে সাজু (২১) এবং জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ (৪৮), যিনি একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রহিম ও রহমত উল্যা।

বাদলকে ইতোমধ্যে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তাকেসহ সাজু ও সোহাগকে মঙ্গলবার নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করার কথা রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে রোববার রাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলায় ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানোর এক মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এরপর ৩৫ বছর বয়সী ওই নারীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ওই নারীর নিরাপত্তা, জবানবন্দি নেওয়া, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক ঘটনায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো অবহেলা আছে কি না তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছে হাই কোর্ট।

কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের অধ্যক্ষকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীসহ সারা দেশেই বিক্ষোভ-মানববন্ধনের মত কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন সংগঠন। নিপীড়কদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে সেসব কর্মসূচি থেকে।