নুসরাত হত্যায় ১৬ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ডের রায়

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ৭ মাসের মাথায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক তার রায়ে বলেছেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ফেনী জেলার অন্যতম বড় বিদ্যাপীঠ। দুই হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে। এলাকার শিক্ষা সম্প্রসারণে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলোকজ্জ্বল ভূমিকায় ‘কালিমা লিপ্তকারী’ এ ঘটনা ‘বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

“নারীত্বের মর্যাদা রক্ষায় ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির তেজদ্বীপ্ত আত্মত্যাগ তাকে ইতোমধ্যে অমরত্ব দিয়েছে। তার এ অমরত্ব চিরকালের অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি আসামিদের ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়। বিধায়, দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই আসামিদের প্রাপ্য।”

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে এবং জরিমানার অর্থ আদায় করে নুসরাতের বাবা-মাকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

নুসরাতের পরিবারের সদস্যরার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়কে বলেছেন ‘দৃষ্টান্তমূলক’। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হয়েছে, যাকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’ বলেছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন তারা।

দণ্ডিত ১৬ আসামি

অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আলম, সাইফুর রহমান, মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, মো. আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল

দণ্ডিত এই ১৬ আসামির মধ্যে রয়েছেন নুসরাতের শিক্ষক- সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, যিনি এই হত্যাকাণ্ডের হুমুকদাতা।

রয়েছেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম, যারা হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন।

নুসরাতের তিন সহপাঠী কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ও জাবেদ হোসেন, যারা একইসঙ্গে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন; নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর যারা ফের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন, সেই সঙ্গে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অধ্যক্ষ সিরাজের কয়েকজন সহযোগী, যারা এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের সবার সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে আদালতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.