নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা

সুতপা বেদজ্ঞ  

বাংলাদেশের মানুষের একটা বিরাট অংশের মধ্যে দেশ, দেশের সম্পদ, মানুষ, পরিবেশ-প্রতিবেশ, কর্মসংস্থানসহ প্রায় প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে বিশেষ উদাসীনতা বা সকল অন্যায় সহ্য করার নেতিবাচক প্রবণতা স্বাধীনতার পর থেকেই পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। শুধু তাই নয় এদেশের শিক্ষা, রাজনীতি এমনকি স্বাস্থ্যখাত চরম উপেক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষিত-সচেতন সাধারণ মানুষকে মুখে ‘টু’ বলতে পর্যন্ত শোনা যায় না। আদিবাসী-সংখ্যালঘুুদের ওপর বারবার আক্রমণ শিক্ষিত সমাজের চেতনা জগতে নাড়া দেয় না বললেই চলে। নারীর প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচার ঘটলে গুটিকয় মানুষকেই প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাবার সংবাদে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি কাজের সন্ধানে হাজার হাজার যুবক সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে মারা যাওয়ার সংবাদে বা সড়কে নিয়মিত শত শত তাজাপ্রাণ ঝরে যাওয়ার খবর শুনলে বড়জোর উঃ আঃ ছাড়া কোন সক্রিয়তা চোখে পড়ে না। এই সুযোগে সরকারি-বেসরকারি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি-লুটপাট এখন বৈধতা পেয়েছে, অন্যায়-অনাচার সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে, অনৈতিক পথে উপার্জনকে সমাজ অন্যায় কাজ বলে ভাবতেই ভুলে গেছে।

কারণ হিসেবে অনেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকা, জবাবদিহিতার অভাব এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতিকে দায়ী করে থাকেন। কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু শুধুমাত্র এজন্য সাধারণ জনগণের ক্রমাগত অন্যায় সহ্য করার প্রবণতা সমাজে শেকড় গেড়েছে একথাও পুরোপুরি মেনে নেয়া যায় না। রাজনীতি মানুষের অর্থনীতি-সংস্কৃতি পরিচালনায় বিরাট ভূমিকা রাখে একথা ঠিক। কিন্তু দায়িত্বশীল সচেতন সৎ মানুষ যদি রাজনীতির প্রতি আগ্রহ না দেখায়, ক্রমাগত নিজের স্বার্থ চিন্তার আবর্তে ঘুরপাক খাওয়ার প্রবণতা বিকাশ লাভ, সর্বোপরি সবসময় ঝুঁকি এড়িয়ে গা বাঁচিয়ে চলার নীতি গ্রহণ করে- সে দায় নিশ্চয়ই রাজনীতির ওপর চাপানো যায় না।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এত এত রক্তক্ষয় হলো। যুদ্ধকালীন সময়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো নারী ও এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলি। হিসেব অনুযায়ী যে এক কোটি পূর্ব পাকিস্থানের নাগরিক ভারতে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল তার নব্বই শতাংশই ছিলো হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবার। যেহেতু সাতচল্লিশ সালে ধর্মেরভিত্তিতে দেশ ভাগ হলো সেজন্য পশ্চিম পাকিস্থানিরা এ দেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চেয়েছিল। পাকিস্তানী আমলেও পূর্ব পাকিস্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু ছিলো শতকরা প্রায় চব্বিশ ভাগ। পাকিস্থানীদের ধারণা ছিলো সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করলে যুদ্ধে জয়লাভ করা সহজ হবে। সকল ভাবনার অবসান ঘটিয়ে এই ভূখন্ডের মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে নয় বরং জাতীয়তা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েই দেশ স্বাধীন করেছিল।

যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠনে দেশের মানুষ মনোযোগী হবে এই প্রবণতা স্বাভাবিক ছিলো। যুদ্ধে কেউ সন্তান হারিয়েছে, কেউ স্বামী কেউবা পিতা-মাতা। অনেকের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ওপর দিয়ে যে অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন ঘটে গেছে তাতো ভুলে যাবার নয়। এ রকম একটি বাস্তবতায় একে অপরের কষ্ট ভাগাভাগি করে নেবে, পরস্পরের মধ্যে সৌহার্দ-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে সেটাই স্বাভাবিক ছিলো। ধর্মীয় পরিচয় নয় বরং একই ভূখণ্ডের অধিবাসী, একই জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা নাগরিকদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়ে একটি মহান মানবিক রাষ্ট্র গঠিত হবে। শহীদদের আত্মদান স্বার্থক হবে এটাই ছিলো প্রত্যাশা।

সকল আশাকে হতাশায় পরিণত করে স্বাধীনতার পর পরই দেখা গেল রিলিফ কার্যক্রমে দুর্নীতি। দেখা গেল সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-জায়গা জমি দখল, মন্দিরের ক্ষতিসাধনের প্রবণতা। যুদ্ধকালীন সময়ে যারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল তারা ভারত থেকে যথাসময়ে ফিরে না আসায় তাদের সম্পত্তি শক্র সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হলো। সে সকল সম্পত্তিপত্তন নেয়া বা দখল করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেল। রাস্তা-ঘাট পুল-সেতু সংস্কারের টাকা লোপাট হতে শুরু করল। মানুষে মানুষে বৈষম্য ঘোচার বদলে নব্য ধনীশ্রেণির সংখ্যা বাড়তে লাগল।

অবিভক্ত ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের কথা সবারই জানা। সে আন্দোলনে বর্তমান বাংলাদেশ অংশের শিক্ষিত-সচেতন মানুষ অংশ নিয়েছিল। বিদেশি পণ্য বর্জন করেছিল। সেই মানুষদেরই স্বাধীন বাংলাদেশে নিজের দেশের পণ্য বর্জনের প্রবণতা লক্ষ করার মত। আশির দশকে আমরা যখন বেড়ে উঠেছি তখন দেখেছি নারীরা ভারতীয় শাড়ি পাবার জন্য আকুল হতেন। পুরুষেরা জাপান, থাইল্যান্ড বা আমেরিকান পোশাক। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে বিশেষ পছন্দের ছিলো ভারত, আমেরিকা। একথা ঠিক সদ্য স্বাধীন দেশ ছিলো আমদানি নির্ভর । যখন এদেশে মান-সম্মত পণ্য উৎপাদন শুরু হলো তখনো মানুষের বিদেশ নির্ভর প্রবণতার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি দেখা গেল না। মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বাজার ব্যবস্থা। এই প্রবণতার ফলে মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে ব্যবসায়ীরা অসাধু পথে হাঁটতে শুরু করেন। নিজের দেশের পণ্য কখনো ভিনদশে লেভেল দিয়ে কখনোবা অসত্য কথা বলে বিক্রয়ের পথ বেঁছে নেন। মুক্তবাজার অর্থনীতির কল্যাণে এই ধারা আরও বিকাশ লাভ করেছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এদেশে কর্মসংস্থান সীমিত একথা ঠিক। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রায় সকল কল-কারখানা বন্ধ বা বিরাষ্ট্রীকরণ করা হয়েছে একথাও ঠিক। নিজের দেশের সরকারিখাতের শিল্প বিকাশে বাধা কোথায় বা কীভাবে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে সে সকল বিষয়ে কোন আগ্রহ সাধারণের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। বরং কোনরকম দক্ষতা অর্জন না করে এদেশের তরুণদের একটি বিরাট অংশের প্রবণতা হলো বিদেশে গিয়ে অর্থ উপার্জন করা। যে যুবক বা তার পরিবার দেশের মধ্যে পেশা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্মান-অসম্মান খুঁজে বেড়ায় সেই মানুষেরাই বিদেশে গিয়ে যে কোন অড জবের (হোটেলে থালা পরিষ্কার করা, ড্রেন সাফাই, ময়লা কুড়ানো) ক্ষেত্রে কোন অসম্মান বোধ করে না। একঘরে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন-যাপনের মধ্যেই তারা বিরাট সফলতা খুঁজে পায়। এই প্রবণতার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নতদেশসমূহ সস্তায় শ্রমিক পেতে এদেশের শ্রমজীবীদের খুঁজে নেয়।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এদেশের মানুষের বিশেষ প্রবণতা নিজের দেশের সমস্যার চেয়ে আন্তর্জাতিক সমস্যা সম্পর্কে জানা-বোঝা এবং একাত্ম হওয়া। দেশের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার জন্য যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে কি-না, তাদের মনোবিকাশের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে কি-না, মাদক বা মিডিয়া শিশুদের মনোজগতকে কিভাবে তৈরি করছে তার চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে বিভাজন করে রক্তক্ষয় করতে। ইউরোপের বনে আগুন লাগলে এদেশের মানুষকে যতটা উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায় তার এক শতাংশ উদ্বিগ্নতাও দেখা যায় না যখন সেজান জুস কারখানায় প্রায় অর্ধশত শিশু আগুনে পুড়ে লাশ হয় অথবা তাজরীণ ফ্যাশন ধসে গিয়ে হাজার শ্রমিক লাশ হয় অথবা প্রতিবছর কোন না কোন বস্তিতে আগুন লাগে বা আগুন লাগিয়ে ভিটেমাটি-সহায়-সম্বলহীন মানুষদের নিঃস্ব করে দেয়া হয় অথবা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন চলে।

আফগানস্থানে তালেবানরা প্রায় দু যুগ পরে ক্ষমতা দখল করেছে। তালেবানি মতাদর্শ নারী প্রশ্নে প্রতিক্রিয়াশীল বিধায় আমাদের দেশের মানুষেরা ভীষণ চিন্তিত সে দেশের মেয়েদের পরিণতির কথা ভেবে। অন্যদিকে দেশে যখন পরীমনিসহ মেয়েদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে তখন এই মানুষদেরই কোন উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না। পরীমনিদের বুকফাঁটা আর্তনাদ তাদের কানে পৌঁছায় না। এদেশের নারীরা যখন গৃহপরিচারিকা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যায় এবং দাসের মত জীবনযাপনে বাধ্য হয় তখনো এটি আলোচনার জন্য গুরুত্ব বহন করে না। ভারতীয় যে সকল টিভি চ্যানেল নাটক- সিনেমায় প্রতিনিয়ত সংসারের কুটিলতা সামনে নিয়ে আসে সে সব দেখতে যত আগ্রহ দেশের শিল্পী-কলাকুশলীদের তৈরি সুস্থ বিনোদন বা নাটক দেখতে ততটাই অনাগ্রহ লক্ষ করা যায়।

ধর্ম অবমাননার নামে বিদেশি লেখক সালমান রুশদির ফাঁসি চেয়ে লক্ষ লোকের মিছিল হয় এই দেশে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের ওপর হামলার শুধু প্রতিবাদ করা হয় না প্রায় সাত লক্ষ ভিনদেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে জাতি হিসেবে গর্বিত হয় এই দেশ। অথচ নিজের দেশে যখন বৌদ্ধ মন্দির গুঁড়িয়ে দেয়া হয়, পাবনায়, সুনামগঞ্জের শাল্লায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সংখ্যালঘু আদিবাসীদের ওপর হামলা হয়, খুলনার শিয়ালীতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় উপসনালয় ভেঙে দেয়া হয় তখনও এমনকি স্ব স্ব সম্প্রদায়ের শিক্ষিত সচেতন মানুষদের একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস দেখাতে দেখা যায় না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব পালনে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়, সাধারণ মানুষ পাড়ায় পাড়ায় উৎসব উদ্যাপনের দায়িত্ব নিতে পারে না।

এই প্রবণতার রেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আরও ফুলে-ফলে বিকশিত হয়েছে। দেশে এখন নিয়মিত প্রবণতা হলো নির্বাচন এলে হিন্দুদের মন্দির ঘর-বাড়ি ভাঙা। কথায় কথায় ধর্ম অবমাননার বানোয়াট ধুয়ো তুলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলে অবর্ণনীয় নির্যাতন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন, তাদের বসতি থেকে উচ্ছেদ এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একটি নেতিবাচক প্রবণতা রুখতে না পারলে তা নতুন নতুন প্রবণতার জন্ম দেয়। আজকের বাংলাদেশ তার জলন্ত উদাহরণ। এখানে যাদের কিছুটা সামর্থ আছে তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই প্রবণতা দেশের বাইরে বসতি স্থাপন। এখনকার শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের সাধারণ প্রবণতা এদেশে তারা ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। ভয়ংকর এই প্রবণতা রুখতে না পারলে আগামী ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এদেশে শিক্ষিত-সচেতন ও নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের একসাথে বসবাসের ঐতিহ্য যে হারিয়ে যাবে তা অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

জাতি হিসেবে আমাদের গৌরব করার অনেক কিছুই আছে। সবচেয়ে বড় গৌরবের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে প্রাপ্ত অসাম্প্রদায়িক ভূখণ্ডের পরিচয়। আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সভ্যতা-সংস্কৃতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য। শুধুমাত্র নেতিবাচক প্রবণতার জন্য তা শেষ হয়ে যেতে পারে না। লাখো শহীদের রক্তে জন্ম নেয়া এই দেশের স্বার্থে আগামী ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি রক্ষা করার স্বার্থেই সকল অশুভ প্রবণতা ঝেড়ে ফেলা দরকার। সমাজের একঝাঁক সচেতন-শিক্ষিত-প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষের সচেতন সক্রিয় উদ্বোধনই কেবল এই প্রবণতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

লেখক: সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সিপিবি খুলনা জেলা কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.