নিকারাগুয়ায় এগিয়ে বামপন্থীরা

নিকারাগুয়ায় বড় জয়ের অভিমুখে বামপন্থী সান্দিনিস্তা ফ্রন্ট। ৭ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশটিতে নির্বাচন হয়। প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট গণনার পরে দেখা যাচ্ছে বিরোধীদের বিস্তর তফাতে ফেলে এগিয়ে রাষ্ট্রপতি দানিয়েল ওর্তেগার দল। নির্বাচনে সান্দিনিস্তারা পেয়েছে ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি ভোট। এদিন রাতে মানাগুয়ায় নিকারাগুয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সিএসই’র পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। সিএসই’র প্রথম রিপোর্টে ওর্তেগা-মুরিল্লো জুটি ৭৪.৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যদিও এখনও ভোট গণনা চলছে। দেশের ১৩,৪৫৯টি বুথের মধ্যে ৬,৬২৯টি বুথ থেকে ব্যালট গণনায় স্পষ্ট বামপন্থী সান্দিনিস্তা ফ্রন্টের নির্বাচনী অগ্রগতি। সিএসই আরও জানাচ্ছে, আপাতত ১৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে কনস্টিটিউশনাল লিবারেল পার্টি। অন্য বিরোধী দলগুলির প্রাপ্ত ভোট ৫ শতাংশের তলায়।

এবছর নিকারাগুয়ার ভোটে ৬টি দল এবং ১টি জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বিভিন্ন দেশের ২০০-র বেশি পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে কমিশনের জাতীয় কেন্দ্রে ভোট গোনার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া, আবখাজিয়া এবং সাউথ ওসেটিয়ার বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নিকারাগুয়ায় গত ৭ নভেম্বর অবাধ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোটদানের কথা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক মন্দার দীর্ঘমেয়াদী চক্রাবর্তে নয়া উদারনীতির রাস্তা মসৃণ করতে নিকারাগুয়ার ভোট ঘিরে লাগাতার ভাবেই অপপ্রচার চালিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেপথ্যে থাকা নৈরাজ্যবাদী শক্তিকে সমানে মদত দিয়ে গেছে ওয়াশিংটন। এই কাজে কুখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বিশেষ সহায়ক ছিল ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটস (আইএসিএইচআর)। ভোটের প্রাথমিক ফল সামনে আসার পর রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গে লাভরভ সেই ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান নিকারাগুয়ায় বিধি মেনেই ভোট হয়েছে। তাই অন্য সব দেশেরই ভোটের ফলকে মর্যাদা দেওয়া উচিত। ‘‘এটা দুঃখজনক তার পরেও নিকারাগুয়ায় সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তা প্রকাশ্যেই,’’ জানান লাভরভ। পাশাপাশি একাধিক দেশের পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিকারাগুয়ার ভোটের ফলাফল ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই প্রশ্ন তুলতে তৎপর। ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিকারাগুয়ার জনাদেশ যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি না পায়।

নির্ববাচনের দিন বাড়ার সঙ্গেই সান্দিনিস্তাদের জয় ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওর্তেগার ওপরেই দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন বেশি বেশি করে সামনে আসতে থাকে। স্পষ্ট হয় সানদিনিস্তা বিপ্লবে কমান্ডার ওর্তেগার নেতৃত্ব নিকারাগুয়ার নাগরিকদের স্মৃতি জীবন্ত। ভোটে ওর্তেগা এবং তাঁর স্ত্রী রোসারিও মুরিল্লো জুটিতেই ভরসা অটুট। পাশাপাশি ভোটের প্রবণতা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। পশ্চিমের সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিকারাগুয়ার জমির হালহকিকৎ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না। রাষ্ট্রপতি ওর্তেগার সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো, খাদ্য, কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের সমাজে সমান সুযোগ দিতে যে বিপুল কর্ম-উদ্যোগ নিয়েছে তার কোনও খোঁজই রাখে না। স্বাভাবিকভাবেই, তাই শুধুই অপপ্রচারে নিকারাগুয়ার মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়নি বলার অপেক্ষা রাখে না।

মহামারীর আবহে নিকারাগুয়ায় কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া চলে। রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনে মোট ভোটদাতা ৩৫লক্ষের বেশি। সিএসই’র সভাপতি ব্রেন্ডা রোচা জানান, ‘‘নিকারাগুয়ার মানুষ দেশের ঐতিহাসিক নাগরিক অধিকার পালনে আশাবাদী।’’ তিনি জাতীয় এবং প্রাদেশিক স্তরে ভোট গণনার খবরও জানান। স্বাভাবিকভাবেই ওর্তেগার জয়ের খবরে উৎসবের মেজাজে সান্দিনিস্তা ফ্রন্টের কর্মী সমর্থকরা। মার্কিন মদতপুষ্ট স্বৈরাচারী একনায়ক আনাসতাসিও সোমোজার অপশাসনের অবসানের শেষে নিকারাগুয়ায় ১৯৭৯-৮৫ পর্যন্ত গভার্নিং বোর্ডের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন প্রাক্তন গেরিলা নেতা ওর্তেগা। এর পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৮৫-৯০ নিকারাগুয়ার রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।

১৯৯০ সালের ভোটে বিরোধী প্রার্থী ভিওলেটা চামোরোর কাছে পরাজিত হন ওর্তেগা। অবশ্য তার পরেও নিকারাগুয়ার রাজনীতিতে দানিয়েল ওর্তেগা ছিলেন সমান সপ্রতিভ। ফের ২০০৭ সালে ভোটে নির্বাচিত হন ওর্তেগা। পরের তিনটি রাষ্ট্রপতি ভোটেও জয়ী হন তিনি। এবার নির্বাচিত হলে, টানা চার বার ভোটে জয়ী হবেন ওর্তেগা।

সূত্র: সাপ্তাহিক একতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.