নাইজেরিয়ার চলমান বিক্ষোভে ১২ জন নিহতের খবর

দেশের শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনয়নের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নাইজেরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনায় অনেকে হতাহত হয়েছেন। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর লাগোসে পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সিএনএন আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম বলেছে, গুলিতে ১২ জনের মতো নিহত এবং আরও অনেকে হতাহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সেখানে বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে তারাও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নাইজেরিয়ার পুলিশের বিশেষ ইউনিট স্পেশাল অ্যান্টি-রোবারি স্কোয়াডের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে লোকজনকে অবৈধভাবে আটক, নাজেহাল করা, এমনকি গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এটি বিলুপ্ত করার দাবিতে দুই সপ্তাহের বেশি আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ অবস্থায় ১১ অক্টোবর এই বাহিনী বিলুপ্তও করে সরকার।

তবে বিক্ষোভকারীরা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীতে আরও পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশটির শাসনব্যবস্থায়ও সংস্কার আনার দাবি তোলেন। বিক্ষোভ দমাতে লাগোস এবং আরও কয়েকটি অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ উপেক্ষা করে গতকাল লাগোসের লেক্কি টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন একদল বিক্ষোভকারী। ওই স্থানেই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তিদের সেবাশুশ্রূষা করছেন বিক্ষোভকারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি নিউজকে বলেন, গুলিবর্ষণ শুরু হয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দিকে বন্দুক সরাসরি তাক করে গুলি ছোড়েন সেনাসদস্যরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গুলিবর্ষণ চলে। পরে মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিয়ে যান সেনাসদস্যরা। তাঁরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখায় অ্যাম্বুলেন্স সেখানে যেতে পারেনি।

ওই স্থানে গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করেনি নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের দাবি গুলিতে কয়েকজন শুধু আহত হয়েছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা বলেছে, ঘটনাস্থলে ১২ জনের মতো নিহত হয়েছেন।

প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নাইজেরিয়া শাখা টুইটারে বলেছে, তারা লাগোসের লেক্কি টোলপ্লাজা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং এর ফলে অনেকের মৃত্যুর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছে।