নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পাহাড়ধসের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সিপিবির বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা এবং পাহাড়ধস ও জানমাল রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

২০ জুন ২০২২, বিকেল ৫ টায় সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ছাত্রনেতা এ্যানি সেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফরিদুর ইসলাম, কোতোয়ালি থানার সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, সদস্য রবিউল হোসেন, যুব নেতা অভিজিৎ বড়ুয়া, ছাত্রনেতা ইমরান চৌধুরী প্রমুখ

সমাবেশে বক্তারা জলাবদ্ধতার জন্য প্রশাসনের অদক্ষতা, লুটপাট ও সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করে বলেন, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতার ব্যাপারে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মনোন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং দ্বন্দ্ব জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্ষাকাল এলে কিছু তোড়জোড় দেখা গেলেও বছরের বাকি সময় কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়ে না। জনপ্রতিনিধিরা আসে যায়। আশ্বাসও মেলে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা মেলা ভার! প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বরাদ্দ হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু বৃষ্টি কিংবা বর্ষায় মানুষকে ঠিকই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জলাবদ্ধতার এ সমস্যা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নাই।

জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বক্তারা বলেন, এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততার পরিচয় দিতে হবে। লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করার অধিকার কারো নেই। জনগণের ভোট নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করা চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা হলে কখনোই পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খালগুলো উদ্ধার করে পানি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। নালা-নর্দমা ভরাট করে যারা বিল্ডিং নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রভাবশালী এবং পেশিশক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

চট্টগ্রামের পাহাড়ধস  সম্পর্কে বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে প্রতিবছরই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছরই এই ঘটনা ঘটছে।গত ১৩ বছরে পাহাড়ধসে দুই শতাধিক মানুষের মুত্যু হলেও থেমে নেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। টানা ভারী বৃষ্টিতেও পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেক পরিবার। তাদের সরানো হয় শুধু বর্ষা মৌসুমে। তবে বর্ষা শেষে তেমন কোনো তদারকি দেখা যায় না। যদি স্থায়ী কোনো সমাধান না হয়, তাহলে প্রাণহানি আরও বাড়বে। নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। অর্থের লোভে নিম্ন-আয়ের পরিবারদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। নিয়ন্ত্রণহীন পাহাড় কাটা, পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণসহ আরো কিছু অপরিণামদর্শী মনুষ্য তৎপরতার পরিণামে ধসে পড়ছে পাহাড়। আগে সেইসব প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের ঢালের বসতি উচ্ছেদের ব্যবস্থা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, পাহাড়ধস ঠেকানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে পাহাড় কাটা, পাহাড়ের বৃক্ষ উজাড়, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ।

সর্বোপরি, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে সরকারের শীর্ষ মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এর কোনো বিকল্প নেই বলে বক্তারা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.