ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন বানচাল করতে অপপ্রচার

গত ৫ অক্টোবর থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনা, সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাসহ সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ছাত্র-জনতা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বানচাল করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠণ বাংলাদেশ ছাত্র লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ আন্দোলনের আসমানী আশা নামের একজন কর্মীকে নাতাশা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মিথ্যা তথ্য যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে সেই আন্দোলনকর্মী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, “আমি আসমানী আশা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক৷ আমি ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত আছি। আমার বাবা সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা৷ আমার পুরো পরিবার বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত৷ আমি কোনো সময় অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা দলের সাথে যুক্ত ছিলাম না৷ আমি অন্যায়ের সাথে কখনও আপোষ করি নি আর করবও না।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক তার নিজস্ব ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, “আশা আর নাতাশা সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। আশা জীবনেও ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন করে নাই। তার চেয়েও বড় কথা কেউ ছাত্রদল হলেই বা কী! আপনি তাকে পতিতা বলতে পারেন না। নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই লোক কি আসলেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে!”

এছড়াও আন্দোলনকর্মীদের প্ল্যাকার্ড সম্বলিত ছবির বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করছে বলেও আন্দোলনকারীদের দাবি। গঠণমূলক দাবি ও বক্তব্যকে বিতর্কিত বক্তব্যে রূপ দিয়ে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করার সময়ে মুজিব কোর্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও একদল লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রহমান মফিজ বলেন, “এসব সরকার দল ও ধর্ষণের পৃষ্ঠপোষকদের অপপ্রচার। তাদের মূল উদ্দেশ্য এ আন্দোলনকে বানচাল করা। যাতে তারা ধর্ষকদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু আমরা সব ধরণের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব। আর এদের পাহারাদার ও মদদদাতাদের সমূলে উৎপাটন করব।”

উল্লেখ্য, ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার এবং ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’র ব্যানারে সম্মিলিত ছাত্র-জনতা বিগত ৩ দিন ধরে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচিতে বাম ও প্রগতিশীল ছাত্র-যুব সংগঠণ, সাংস্কৃতিক সংগঠণ, শ্রমিক ও রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।

শাহবাগ ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন স্থান ও পয়েন্টে ধর্ষণবিরোধী স্লোগানে স্লোগানে ছাত্র-জনতা গণজমায়েত ও অবস্থান করেছে বলে আমাদের প্রতিবেদক নিশ্চত করেছে।

রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, বগুড়া, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিলেট, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ দেশব্যাপী ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।