দ্বাদশ কংগ্রেস: সিপিবির রাজনৈতিক রণকৌশলগত ভাবনা-৮

[বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেসে সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও মতামতের ভিত্তিত পার্টির রণকৌশলগত রাজনৈতিক লাইন করবে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সে বিষয়ে সদস্যদের মতামত ও পরামর্শের জন্য ‘রাজনৈতিক প্রস্তাবের খসড়া প্রণয়ন করে তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এই ‘খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবে দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রবণতাসমূহ, এবং একইসাথে আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পার্টির রাজনৈতিক কর্মকৌশলের প্রস্তাবনা নির্ণয় করা হয়েছে। এই খসড়া দলিলের বিশেষ-বিশেষ কিছু অংশ ‘একতার পাতায় পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ তার ৮ম তথা শেষ অংশ মুদ্রিত হলো।]

অধ্যায়-৫ (২-য় অংশ)

সিপিবির দ্বাদশ কংগ্রেস উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ‘খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবে’ বলা হয়েছে যে- বর্তমান সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধন করতে হবে। অন্য কাজ আগে সম্পন্ন করার জন্য এই মূল কর্তব্যকে স্থগিত বা পেন্ডিং রাখা যাবে না। এটিকে সব সময়ের মূল কাজ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অপরাপর সব আশু ও জরুরি কাজের সময়েও এই বিষয়টিকেই কেন্দ্রীয় কর্তব্য বলে বিবেচনা করে সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে। এবং, এক্ষেত্রে পাঁচটি কাজকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। কমিউনিস্টদের শক্তি বৃদ্ধিসহ এসব কর্তব্য সম্পাদন করার ক্ষেত্রে প্রথমেই বলা হয়েছে পার্টির নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করার কথা।

নিজস্ব শক্তি বাড়ানোর প্রশ্নে ‘খসড়া দলিলে’ বলা হয়েছে- “…এসব মৌলিক কাজ অগ্রসর করার জন্য পার্টিকে প্রধান উদ্যোগী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হতে হবে। পার্টিকে শক্তিশালী করার কাজটি এ কারণে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। এ কথা মনে রেখে নিম্নলিখিত কাজ গুরুত্ব সহকারে করতে হবে-

“(ক) কমিউনিস্ট পার্টির শক্তি, সামর্থ্য, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, দেশের সবচেয়ে পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পার্টি হিসেবে সিপিবির দায়িত্ব অনেক। সেজন্য পার্টিকে সত্যিকার অর্থে বিপ্লব ও শ্রেণিসংগ্রামের পার্টি, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের পার্টি, জাতীয় স্বার্থরক্ষার পার্টি, গণভিত্তিসম্পন্ন পার্টি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মেহনতি শ্রেণির পাশাপাশি সমাজের সম্ভাব্য সর্বস্তর ও সর্বমহলে পার্টির যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীল সন্ত্রাসী হামলা বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মোকাবিলায় সক্ষম, নানা জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ধরাবাহিক কাজ এগিয়ে নিতে পারদর্শী, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে লড়াকু গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে সক্ষম এবং একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে নানা ইতিবাচক গঠনমূলক কাজ এগিয়ে নিতে সামর্থ্যবান একটি সুশৃঙ্খল বিপ্লবী সংগঠন হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টিকে গড়ে তুলতে হবে। পার্টিকে আরও বেশি দৃঢ়তা-শক্তি-সাহস-ঝুঁকি-সৃজনশীলতা নিয়ে সমাজের সমস্ত বিপ্লবী শক্তি ও উপাদানের উন্মেষ ঘটানোর জন্য সচেষ্ট হতে হবে। নির্বাচনী-সংগ্রামের জন্যও পার্টিকে প্রস্তত করে তোলার জন্য বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে এবং পার্টির সব স্তরের সংগঠনকে সে কাজের জন্য অনেক আগে থেকে প্রস্তত থাকার মতো করে দক্ষ ও উপযুক্ত করে তুলতে হবে।

“(খ) শ্রমিক, কৃষক ক্ষেতমজুর, নারী, আদিবাসী, ছাত্র, যুবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বস্তিবাসী, সাংবাদিক, আইনজীবী, পেশাজীবী প্রভৃতি অংশের মানুষের প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহের কাজের মাত্রা, পরিধি ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। নানা পন্থায় জনগণের মধ্যে কাজ, শ্রেণিসংগ্রাম, গণসংগ্রাম, গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা জোরদার করতে হবে।”

দেশে কমিউনিস্ট শক্তি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনেই ‘কমিউনিস্ট ঐক্যের’ জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- “(গ) অপরাপর কমিউনিস্ট দল ও শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ও ধৈর্যের সঙ্গে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কমিউনিস্ট ঐক্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হলে, তাকে কাজে লাগাতে হবে। একইসঙ্গে তাদের নিয়ে গণসংগঠনের ঐক্য গড়ে তোলা এবং সাধ্যমতো ঐক্যবদ্ধ গণসংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টাও চালাতে হবে।”

‘খসড়া দলিলে’ কমিউনিস্টদের নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার কাজের কথা বলা হয়েছে। সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে –বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার কাজ।

“(১) অপরাপর বামপন্থি শক্তি এবং একইসঙ্গে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তিকেও বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার কাজে শামিল করতে সচেষ্ট হতে হবে। এসব শক্তিকে ঐক্যের ধরায় টেনে আনার চেষ্টা করতে হবে। একটি-দুটি দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে উঠলে, তাকে রক্ষা ও প্রসারিত করার চেষ্টা করতে হবে। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের প্রক্রিয়া সহজ-সরল নয়। নানা ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়েই তাকে সৃজনশীলভাবে ও ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যুগপৎ ও সমম্বিত ধারায় সমঝোতা, সমন্বয় ও ঐক্য গড়ে তোলার কাজকে ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ঐক্য গড়ার এই প্রয়াসকে তৃণমূল পর্যায় থেকেও এগিয়ে নিতে হবে।

“(২) সহযোগী বামপন্থি, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও শক্তির দোদুল্যমানতা, সুবিধাবাদ, বাক্যবাগীশতা, প্রদর্শনবাদ, হঠকারিতা, সংকীর্ণতা প্রভৃতি বিচ্যুতির বিরুদ্ধে ধৈর্যের সঙ্গে সংগ্রাম করার পাশাপাশি, সবাইকে তৃণমূলে প্রকৃত শ্রেণিসংগ্রাম ও গণসংগ্রামের কাজে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করার চেষ্টা করতে হবে।”

এটিকে রাজনৈতিক কর্মকৌশলের মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে গন্য করার পাশাপাশি বলা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক শক্তি-ভারসাম্যের বাস্তবতা বিচার করে বৃহত্তর শক্তি-বলয় গড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে তা হলো- বৃহত্তর শক্তি বলয়।

“বর্তমানে দেশে যে শক্তি-ভারসাম্য বিদ্যমান তা বিবেচনায় রেখে, বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্পের সম্ভাব্য শক্তি ছাড়াও, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বলয়ের বাইরের দেশপ্রেমিক, উদারনৈতিক, সৎ ও জনপ্রিয় শক্তি এবং ব্যক্তিকে নিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য বৃহত্তর শক্তি-বলয় গড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হবে।”

বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার কাজটিকে কর্মকৌশলের প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এই লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার পথে বুর্জোয়াদের মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাটিও বিবেচনায় রেখে সে ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে ‘খসড়া দলিলে’ বলা হয়েছে- বুর্জোয়াদের মধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন।

“দেশে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনার আগে, রাজনৈতিক ক্ষমতার নানা উত্থান-পতন ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এধরনের কোনো পরিবর্তনের কাজে অংশীদার না হলেও, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার অভিঘাত কী হতে পারে, সেই মানদণ্ডের বিবেচনা থেকে এসব রাজনৈতিক পর্ব সম্পর্কে মূল্যায়ন করে উপর্যুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণ করতে হবে। এসব পরিবর্তনের মুখে, স্বাধীন নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখে, মূর্ত-সৃজনশীল কায়দায় এমন কৌশলই কমিউনিস্ট পার্টিকে গ্রহণ করতে হবে, যাতে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দিকে যাত্রা অব্যাহত ও ত্বরান্বিত হয়। এক্ষেত্রে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয় বা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হয়, শাসকগোষ্ঠীর এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।”

এসবের পরে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং রাষ্ট্রের ফ্যাসিস্ট প্রবণতা- দেশের এই দু’টি বড় বিপদ মোকাবিলার প্রশ্নে কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, ফ্যাসিস্ট প্রবণতা প্রতিরোধ।

“বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার মূল কর্তব্য সম্পন্ন করার প্রয়োজনে ফ্যাসিস্ট সশস্ত্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপদ মোকাবিলা করা, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিকসহ সবদিক থেকে প্রতিহত করে এই অপশক্তিকে পরাভূত করা, রাষ্ট্রের ফ্যাসিস্ট পদক্ষেপ রুখে দাঁড়ানো ইত্যাদি কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা অর্জনের কর্তব্যটি বর্তমানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগেই বলা হয়েছে যে, এসব ইস্যুতে কমিউনিস্ট ও বামপন্থি শক্তিকে স্বাধীনভাবে, সংগ্রামের অগ্রভাগে থেকে লড়াই করতে হবে। তা ছাড়া, বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক বিবেচনায় এধরনের নির্দিষ্ট ইস্যুতে সম্ভাব্য ব্যাপকতম শক্তিকে শামিল করারও চেষ্টা করতে হবে। সেজন্য, প্রয়োজন হলে দুর্বলতা-দোদুল্যমানতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও অপরাপর গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক শক্তি বা শক্তি-সমাবেশের সঙ্গে সেরূপ সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে, পরস্পরের স্বাধীন অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে, সাময়িক ও স্বল্প সময়ের জন্য, সমান্তরাল, সম-অভিমুখী, যুগপৎ পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হতে হবে।”

তারপরে সবগুলো কাজের মধ্যে যে একটি আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলা হয়েছে- এসব বহুমুখী কাজ পরস্পর পরিপূরক।

“বস্তুত, উল্লিখিত এসব নানা মাত্রিকতার কাজ সবই হলো একে অপরের পরিপূরক। সেগুলো সবই হলো মানবমুক্তির অভিমুখে পরিচালিত সংগ্রামের বিভিন্ন রূপ ও অংশ মাত্র। ‘বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প’ গড়ার কাজকে মূল কর্তব্য হিসেবে গণ্য করে, নীতিতে অটল ও কৌশলে নমনীয় থেকে, সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন মাত্রিকতার এসব কাজকে সৃজনশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। এসব বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং অন্যান্য গণসংগ্রামকে সমাজতন্ত্র অভিমুখীন সমাজ বিপ্লবের মূল লক্ষ্যে পরিচালনার জন্য পার্টিকে উদ্যোগী ভূমিকা পালনে সচেষ্টা থাকতে হবে। আন্দোলনকে খণ্ডিত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে সবসময় তাকে গভীরতর করা, সেসব আন্দোলনের মধ্যে আর্থসামাজিক ইস্যুগুলোকে ক্রমে ও উপর্যুক্তভাবে যুক্ত করে তার বিপ্লবী উপাদান বৃদ্ধি করা এবং এসব কাজের মধ্যে দিয়ে ‘বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প’ গড়ার প্রয়াসকে পরিপুষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে।”

সিপিবি-র ‘খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে- “দেশের এই সংকটময় সময়ে কমিউনিস্ট পার্টি সব দেশপ্রেমিক জনগণকে পুঁজিবাদের নিষ্ঠুর শোষণ ও অপশাসন, গণতন্ত্রহীনতা, স্বৈরতন্ত্র, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এবং রুটি-রুজি, ভাত-কাপড়, ভোটাধিকার-গণতন্ত্রের দাবি আদায়ের জন্য ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে তীব্র গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে। এই সংগ্রামে বিজয়ের জন্য কমিউনিস্ট পার্টিকে শক্তিশালী করা এবং বাম-গনতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির জাগরণ ও উত্থান ঘটানোর প্রচেষ্টায় সর্বতোভাবে শামিল হতে দেশবাসীর প্রতি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.