দ্বাদশ কংগ্রেস: সিপিবির রাজনৈতিক রণকৌশলগত ভাবনা-৫

 [বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেসে সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও মতামতের ভিত্তিতে পার্টির রণকৌশলগত রাজনৈতিক লাইন করবে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সে বিষয়ে সদস্যদের মতামত ও পরামর্শের জন্য ‘রাজনৈতিক প্রস্তাবের খসড়া প্রণয়ন করে তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এই ‘খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবে দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রবণতাসমূহ, এবং একইসাথে আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পার্টির রাজনৈতিক কর্মকৌশলের প্রস্তাবনা নির্ণয় করা হয়েছে। এই খসড়া দলিলের বিশেষ-বিশেষ কিছু অংশ ‘একতার পাতায় পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ তার ৫ম অংশ মুদ্রিত হলো।]

অধ্যায়-৪

রাজনৈতিক পরিস্থিতি (১ম অংশ)

সিপিবির ‘খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাবে’ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনার পর, পার্টির রণকৌশলগত লাইন তুলে ধরার আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, “…রাজনীতি আজ অভূতপূর্ব গভীর সংকটে নিপতিত। বহুদিন ধরে চলতে থাকা রাজনীতির বাজারিকরণ, দুর্বৃত্তায়ন, নীতি-আদর্শ নির্বাসিত করে ‘বাজারি’ লেনদেন, লাভ-লোকসানের আত্মস্বার্থবাদী ভাবনায় নিমজ্জিত করা ইত্যাদি প্রক্রিয়া রাজনীতির সর্বনাশ ঘটিয়ে চলেছে। …ফলশ্রুতিতে দেশে আজ কার্যত রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন ও মুষ্টিমেয় লুটেরা ধনিকদের এক প্রকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি বাড়ছে। সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির মদত ও ছত্রছায়াতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকছে। দেশের এমন ‘রাজনীতিবিহীন’ অবস্থার ফলে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বেড়ে চলেছে। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সংকটের পাশাপাশি চলতি রাজনীতির এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। …সরকার পরিস্থিতিকে ঠান্ডা রাখতে সক্ষম হলেও, প্রকৃত অবস্থা মোটেও তা নয়। ভেতরে ভেতরে জমছে ক্ষোভ। …সামগ্রিক বিবেচনায় দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিপদ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। …বর্তমানে যে দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল ধারায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে, পরিস্থিতির বর্তমান রুগ্নতা তারই স্বাভাবিক ফলাফল। …পাঁচ দশক ধরে সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী বিশ্বায়নমুখী বাজারি ব্যবস্থা তথা পুঁজিবাদের নয়া উদারবাদী আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণের ফলে, রুগ্নতার ভয়াবহ প্রকোপ দেখা যাচ্ছে এবং অব্যাহত সংকটজালে দেশ নিমজ্জিত হয়ে থাকছে। যে পথে দেশ চলছে, তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতমুখী এবং বৈরী চরিত্রের।”

দলিলে বলা হয়েছে, “…দেশকে রুগ্নতা ও সংকট থেকে মুক্ত করতে হলে, বিদ্যমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ধারা তথা রাষ্ট্রীয় চার মূল নীতির পথে দেশকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই, বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে কমিউনিস্ট পার্টি যে রণকৌশলই গ্রহণ করুক না কেন, তাতে তার ‘সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের’ মৌলিক রণনৈতিক কর্তব্যটি সবসময়ই প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকতে হবে।”

‘খসড়া দলিলে’ এরপর বলা হয়েছে- “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাইলফলক। স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা’ র কথা বলা হয়েছিল। …পাকিস্তানি প্রতিক্রিয়াশীলতা ছিন্ন করে ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’-র রাষ্ট্রীয় চার মূল নীতির ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়নি। …দেড় দশক ধরে প্রত্যক্ষভাবে অথবা বেসামরিক লেবাসে দেশে চলেছে সেনাশাসন। ’৯০-এ সামরিক শাসক স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ও সাংবিধানিক শাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তারপর ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময়কাল বাদ দিলে, প্রায় তিন দশক ধরে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা বুর্জোয়া দুটি বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’-র মধ্যে পালাক্রমে পাঁচ বার হাত বদল হয়েছে। …বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে।”

“…দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, এই দুটি পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক করে রাখার মাধ্যমে দেশকে দ্বিদলীয় মেরুকরণভিত্তিক বৃত্তে বেঁধে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার ক্ষমতার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিএনপিকে বহুলাংশে কাবু করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এ কাজে তারা চরম অগণতান্ত্রিক, আইন বহির্ভূত, ষড়যন্ত্র-চক্রান্তমূলক পন্থা অবলম্বন করেছে। এসব পদক্ষেপ শুধু বিএনপিকেই আঘাত করেনি, তা বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তি এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপরও প্রয়োগ করা হয়েছে। …বিএনপিকে সাম্প্রদায়িকতার অস্ত্র ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত করার কৌশলের কথা বলে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে মিতালীর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দলটিতে সাম্প্রদায়িকতা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপি-র সাথে সাথে, সরকার ও সরকারি দলের প্রশ্রয়ে ধর্মান্ধ ফ্যাসিস্ট সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিস্তৃত হচ্ছে। আরও বিপদের কথা হলো, এই নীতি অনুসরণ করায় সাম্প্রদায়িক ভাবধারা সামাজিক মনস্তত্ত্বে ও সামাজিক কার্যক্রমের পরিমন্ডলে ক্রমাগত ও বিপজ্জনকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসব, উপাসনালয়ে হামলা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে চলেছে।

“ …রাষ্ট্রক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী প্রবণতা, গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিপদ চাপিয়ে দিয়েছে। …আমাদের দেশে এটিই হলো অবাধ পুঁজিবাদের পথ অনুসরণের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। এর ফলে রাজনীতিতে বেড়েছে বাণিজ্যিকীকরণ, পরিবারতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র, দর্বৃত্তায়ন ও আদর্শহীনতার প্রবণতা। কলুষিত হয়েছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি। জনগণের সম্পদ লুটপাট ও লুটের ভান্ডার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে পরস্পরবিরোধী জোটের মধ্যে এবং এমনকি নিজ নিজ দল ও জোটের অভ্যন্তরেও হানাহানি, সংঘর্ষ, দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকছে। লুটপাটের ভাগ পাওয়ার লোভে ক্ষমতাসীন দলে নাম লেখানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। …লোভের হাতছানির পাশাপাশি ভয়ের সংস্কৃতির প্রসার হওয়ায়, মানুষও নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এসবের ফলে দেশ আজ এক স্থায়ী নৈরাজ্যের মধ্যে পতিত হয়েছে। …২০০৭ সালে “ওয়ান-ইলেভেন’’ …ধরনের ঘটনার আশঙ্কা দূর হয়েছে বলে ভাবা ঠিক হবে না। তবে সাধারণভাবে একধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্যের’ পরিস্থিতি টিকিয়ে রেখে শাসক শ্রেণি, বিশেষত বিদেশি শক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নিতে এবং সেই সুযোগে ননানা ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি কনসেশন আদায় করে নিতে তারা তৎপর।

“…আওয়ামী লীগ …তার দলের নীতিগত অবস্থানই উল্টিয়ে ফেলেছে। দলটি এখন মূলত পঁচাত্তর-উত্তর প্রতিক্রিয়াশীল ভ্রান্ত পথ ধরে চলছে। …এই দলের শ্রেণিচরিত্র আমূল বদলে গেছে। এক সময় এই দলের নেতৃত্বে যেখানে প্রাধান্য ছিল মধ্যস্তর ও উঠতি ধনিকদের (উকিল, শিক্ষক, কর্মচারী, ডাক্তার, ছোট ব্যবসায়ী ইত্যাদি), সেখানে এখন প্রাধান্য লাভ করেছে লুটেরা ধনিক শ্রেণি ও বড় বুর্জোয়ার প্রভাব। সাম্প্রতিক সময়ে এই দলের লুটেরা ধনিক শ্রেণি ও প্রশাসন নির্ভরতা আরও বিপজ্জনক আশঙ্কার ভিত্তি রচনা করে চলেছে।

…দেশব্যাপী প্রবল সহিংসতা ও নৈরাজ্যের পরিস্থিতির মধ্যে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদের একটি বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীরা ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী বলে ঘোষিত হয়েছিল। এভাবে, ভোট শুরুর আগেই, অধিকাংশ ভোটারের কোনো ধরনের মতপ্রকাশের সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দিয়ে এক অভিনব কায়দায় মহাজোট দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠনের সক্ষমতা ‘অর্জন’ করে নিয়েছিল। এই কলঙ্কিত নির্বাচনী প্রহসন দ্বারা … জনগণের ভোটাধিকার হরণের একধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নতুন এক অধ্যায় সূচিত হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-এ আরও কুৎসিত কায়দায় নির্বাচনী প্রহসন সংগঠিত করা হয়েছিল। দেশের পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর এই সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। ভোট, ভোটাধিকারসহ পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়। শুধু জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন নয়, বিভিন্ন সমিতি, সামাজিক সংস্থা, প্রতিষ্ঠান প্রভৃতির নির্বাচন পর্যন্ত আজ প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। জাতিকে এই ক্ষত বহন করতে হচ্ছে। “

“…২০১৮ সালের ‘রাতের ভোটের’ প্রহসনের নবতর রূপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন জোট তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। …আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এর কিছুদিন আগে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট, ‘দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক জোট স্বাধীন অবস্থানে থেকে …এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও, নির্লজ্জভাবে কারচুপি চালানোয় এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। …জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকরা এই ঘৃণ্য কাজে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে থাকলেও, এবার তাদের মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়নি। নিজস্ব স্বার্থের অনুকূল ও আজ্ঞাবহ —-শক্তিকে ‘সরকারি’ বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার তৎপরতাও সরকার অব্যাহত রেখেছে। বাম গণতান্ত্রিক বা অন্য কোনো শক্তি এখনও জনমনের ধারণায় বিরোধী দল হিসেবে অধিষ্ঠিত হতে পারেনি।

‘খসড়া দলিলে’ উল্লেখ করা হয়েছে, “…২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে …নবপ্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরিত করার ক্ষেত্রে …ঐতিহাসিক বলা চলে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহলের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, ‘কোটা আন্দোলন’ এবং বিশেষত ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে’’ কিশোর-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেই সুপ্ত সম্ভাবনার প্রকাশ ছিল।”

“…কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায়, জামায়াতের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে। তবে তাদের প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামো ও তৎপরতা ভেঙে পড়েছে বলে বাহ্যিকভবে প্রতীয়মান হলেও, কাজের পদ্ধতি ও কর্মকৌশল বদল করে তারা সুকৌশলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হয়ে আছে। আবার, একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের আদর্শবর্জিত, ক্ষমতাকেন্দ্রিক আত্মঘাতী নীতির সুযোগে এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক স্বাগত হয়ে তারা অনেকে দল বেঁধে আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আওয়ামী ওলামা লীগের ব্যানার থেকে এবং অনেক দায়িত্বশীল আওয়ামী নেতার মুখ থেকে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য, প্রচারণা ও কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। ফলে দেশের সামনে সাম্প্রদায়িক বিপদ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। —- এদের কারো কারো আন্তর্জাতিক কানেকশন রয়েছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান এই অপশক্তিকে উৎসাহিত করছে।

“মামলা-হামলা, দমন-পীড়ন চালিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে অকার্যকর শক্তিতে পরিণত করতে তৎপর রয়েছে। বিএনপিকে বিভক্ত করতেও তারা সচেষ্ট আছে। এসবের মুখে বিএনপি নিজের শক্তি এখনও গুছিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছে না। নিজেকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য বিএনপির ভারত নীতিতে কিছুটা সুর বদল, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করা ইত্যাদি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিএনপিতে এখনও একটি শক্তিমান উগ্র ক্ষমতাকেন্দ্র বিদেশে বসে কলকাঠি নাড়ছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে কোণঠাসা করতে সক্ষম হওয়ায়, বিএনপির নিচের দিকের কিছু নেতা-কর্মী-ক্যাডার চাপে পড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানও করছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিএনপির জনসমর্থনকে আওয়ামী লীগ নিজের পক্ষে টেনে আনতে সক্ষম হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কমছে।

“…বিএনপির দক্ষিণপন্থি, প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্রের স্বার্থরক্ষায় বিএনপি যে আওয়ামী লীগের চেয়ে আরও দক্ষ ও পারদর্শী, তা প্রমাণের মাধ্যমে দলটি দেশি-বিদেশী শোষক শ্রেণির সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। …বিএনপির দ্বারা মৌলিকভাবে ভিন্ন কোনো সুশাসনের ধারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে জনগণ মনে করে না। এ কারণে বিএনপির পেছনে জনগণ উৎসাহ নিয়ে সমবেত হচ্ছে না। বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের সময়কার স্মৃতি এখনও মানুষ ভোলেনি। …মানুষ আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান চায়। তার জায়গায় তারা দেখতে চায় একটি বিকল্প গণমুখী-জনদরদী-প্রগতিশীল রাজনৈতিক সরকার। কিন্তু তাদের সামনে সে ধরনের শক্তি এখনও তারা দেখতে পারছে না। বামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে গণতান্ত্রিক কতক দলের যুগপৎ ধারায় আন্দোলনের চেষ্টা সফল হয়নি। কষ্টকর উপায়ে নীতিনিষ্ঠ বিকল্প শক্তি-সমাবেশ গড়ে তোলার কাজের বদলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রীক দ্বি-দলীয় বৃত্তের কোনো একটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সহজ চিন্তা অনেকের মধ্যে কাজ করে। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি ছাড়া আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো কার্যকর শক্তি দৃশ্যমান না হওয়ায়, জনগণের একটি বড় অংশ বিএনপির নীরব সমর্থক হয়ে আছে।”

[রাজনৈতিক পরিস্থিতি -২য় অংশ আগামী সংখ্যায় প্রকাশিতব্য]

Leave a Reply

Your email address will not be published.