দ্বাদশ কংগ্রেস: চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি অপেক্ষা মাহেন্দ্রক্ষণের

দ্বাদশ কংগ্রেস সফল করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দেয়াল লিখন, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগের পাশাপাশি গণ–অর্থ সংগ্রহ অভিযান। পার্টি এবং প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে একাধিকবার কংগ্রেসস্থল পরিদর্শন করেছেন। কংগ্রেস সফল করতে পার্টির প্রতিটি শাখাকে নিজ কর্ম এলাকায় অন্তত একদিন এবং প্রত্যেক পার্টি সদস্যকে ন্যূনতম একদিন গণ–অর্থ সংগ্রহ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসের রেজিস্ট্রেশন: কংগ্রেসের প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষকদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য কংগ্রেসের দপ্তর চালু থাকবে ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মুক্তিভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত দ্বাদশ কংগ্রেসের দপ্তরে। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কংগ্রেসস্থল গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে রেজিস্ট্রেশন হবে। এরপর আর রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না।

জেলার সব প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকের (যদি পর্যবেক্ষক থাকে) জনপ্রতি ৫০০ টাকা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ফি একসঙ্গে জমা দিয়ে ব্যাগসহ কংগ্রেসের কার্ড, ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে। এক জেলার রেজিস্ট্রেশন একাধিক দফায় করার সুযোগ নেই। কেন্দ্র থেকে পাঠানো প্রতিনিধি তালিকা ও পর্যবেক্ষক (যদি থাকে) তালিকার ফটোকপি, রেজিস্ট্রেশন করার সময় অবশ্যই দপ্তরে জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের আগে অবশ্যই জেলার বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। কংগ্রেস দপ্তরের ফোন নম্বর ০১৮৬৩-১৩৩৭৭৪, ০১৮১৮১৩৫৪৫৬।

উদ্বোধনী অধিবেশন: আগেই জানানো হয়েছে, দ্বাদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশন মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। ওই অধিবেশনে ভেটারেন কমরেডদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অধিবেশন সকলের জন্য উন্মুক্ত হলেও, করোনা-পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে ব্যাপক জনসমাগমের সুযোগ নেই। কংগ্রেস প্রতিনিধিরা ছাড়া যারা উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করবেন, তাদের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জনপ্রতি ৩০ টাকা দিয়ে দপ্তর থেকে খাদ্যকুপন সংগ্রহ করে নিতে হবে।

ভেটারেন কমরেড প্রসঙ্গ: যে সকল ভেটারেন কমরেড উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত হবেন তাদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিকে করতে হবে। কেন্দ্র থেকে ভেটারেন কমরেডদের জন্য পাঠানো আলাদা আমন্ত্রণপত্র জেলা কমিটির ব্যবস্থাপনায় ভেটারেন কমরেডদের কাছে দ্রুতই পৌঁছে দিতে হবে।

জেলার চাঁদা: দ্বাদশ কংগ্রেসের জন্য জেলার নির্ধারিত চাঁদার কথা আগেই জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের রেজিস্ট্রেশনের আগেই এই চাঁদা দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির তহবিলে জমা দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই টাকা কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কংগ্রেস উপলক্ষে অর্থ ছাড়াও চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, চা-পাতা ইত্যাদি বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করে কেন্দ্রে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক: কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য জেলার নির্ধারিত কমরেডদের জেলার চিঠি সঙ্গে করে আনতে হবে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঢাকায় এসে রিপোর্ট করতে হবে। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবক কমরেডকে নিজ নিজ হাত-খরচ এবং ঢাকায় আসা-যাওয়ার খরচ সঙ্গে আনতে হবে।

বিক্রয়কেন্দ্র: কংগ্রেসস্থলে মিলনায়তনের বাইরে ‘জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী’র বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে। বই, পোস্টার ইত্যাদি কেনার জন্য কমরেডরা যাতে আর্থিক প্রস্তুতি নিয়ে আসেন, সে ব্যাপারে জেলা কমিটিসমূহকে প্রচার করতে বলা হয়েছে।

রাত্রিযাপন প্রসঙ্গ: মহানগর নাট্যমঞ্চ ও পার্টি অফিসে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের রাত্রিযাপনের জন্য ব্যবস্থা থাকবে, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ভালো ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য কমরেডদের কষ্ট করতে হবে। কংগ্রেসের সময়ে শীতের অবস্থা হিসাব করে কম্বলসহ প্রয়োজনীয় শীতের কাপড় সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি প্রসঙ্গে: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবসময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাঝে মাঝে হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ও সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। হলে প্রবেশের সময় স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিনিধি পর্যবেক্ষকদের জীবাণুনাশক স্প্রে করবে এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা করবে। এই কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিনিধি-পর্যবেক্ষকদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান থাকতে হবে। কংগ্রেস চত্বরে ‘চিকিৎসা কেন্দ্র’ সর্বক্ষণ চালু থাকবে। কংগ্রেস চত্বরে সকাল ১১টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৫.৩০ মিনিট থেকে ৬.৩০ মিনিট এবং বাসস্থানে সকাল ৮টা থেকে ৯টা ও রাত ৯.৩০ মিনিট থেকে ১০.৩০ মিনিট চিকিৎসক টিম উপস্থিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.