দেশে ক্রিয়াশীল শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর আহবানে দেশে ক্রিয়াশীল শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে “কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, শ্রম আইন সংশোধন বিষয়ে শ্রমিক আন্দোলনের করণীয় –প্রেক্ষিত: সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে ৪৯ জনের মৃত্যু” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সীতাকুন্ডে বি.এম. কন্টেইনার ডিপোয় অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪৯ শ্রমিক-কর্মচারী-উদ্ধারকর্মী নিহত হওয়া এবং কয়েকশত মানুষ মারাত্মক আহত হওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং কর্মক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা এবং পরবর্তীতে দায়ীদের গ্রেপ্তার না করে বাঁচানোর প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে শ্রমজীবীদের বিচার পাওয়ার অধিকারহীনতার যে দৃষ্টান্ত অব্যাহত রাখা হচ্ছে তার প্রতিবাদে এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ক্ষতিপুরণ ও শ্রম আইন সংশোধনে শ্রমিকদের দাবি মানাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গত (১৫ জুন), বুধবার বিকাল ৪টায়, শহীদ কর্ণেল তাহের মিলনায়তনে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর আহবানে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্কপ যুগ্ম সমন্বয়ক চৌধুরী আশিকুল আলম এর সভাপত্বিতে এবং আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন স্কপ নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, শাহ মোহাম্মদ জাফর, সাইফুজ্জামান বাদশা, কামরুল আহসান, শামীম আরা, বাদল খান, শাকীল আক্তার চৌধুরী, কামাল সিদ্দিকী, নুরুল আমিন, আব্দুল ওয়াহেদ, আজিজুন নাহার, গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের সভাপতি জেড. এম. কামরুল আনাম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ. এ, এম ফয়েজ আহম্মদ, জনস্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহাদত হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, শ্রমজীবী ছিন্নমুল হকার সমিতির সভাপতি কামাল সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোবারক হোসেন, ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক শেখ আকরাম হোসেন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে গর্ব করেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির গল্প শুনান। অথচ যাদের ঘাম-রক্ত পানি করে এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, রপ্তানি শিল্পের বিকাশ হচ্ছে সরকার তাদের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করছেন না। ১৯৯০ থেকে ২০২২ কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুর যে মিছিল চলছে, বিদেশী চাপে তৈরি পোষাক ব্যাতিত আর কোথায় সরকার সেই মৃত্যুর মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ শ্রমিকের জীবন নয় মালিকের মুনাফা আর দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষা করায় সরকারের কাছে অগ্রাধিকার বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশীদের কাছে দেশের কর্মক্ষেত্রের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলাকে অভিযোগ হিসাবে বর্ণনা করে, যেকোনো সমস্যা সমাধানে তাঁর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর মত ক্ষমতা শ্রমিকদের নেই। শ্রমিকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করলে তা সংশ্লিষ্টদের কান পর্যন্ত যদি পৌঁছাতো তাহলে মুনাফা লিপ্সু তাজরিনের দেলোয়ার, সেজান জুসের হাসেম বা বি.এম কন্টেইনার ডিপোর মুস্তাফিজুর বা মুজিবুর এতগুলি শ্রমজীবী মানুষের রক্তে হাত রাঙিয়েও মুক্ত বাতাসে ঘুড়ে বেড়াতে পারতোনা। একটি পরিবারের স্বপ্নকে পুড়িয়ে দিয়ে মাত্র ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দায়মুক্তি পেতোনা।

নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষায় শ্রম আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সকল শ্রমিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত দপ্তরসমুহের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি তুলেছিল। যথেষ্ট না হলেও দপ্তরসমুহের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে কিন্তু এই দপ্তরসমুহের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলা আর দুর্নীতি প্রকৃতপক্ষে শ্রম মন্ত্রণালয়কে মালিকদের মন্ত্রণালয়ে পরিণত করেছে যা নিন্দনিয়। শ্রম দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা বলেন যে দপ্তরের নাম শ্রমিকের দপ্তর নয় শ্রম দপ্তর তাই এই দপ্তরে মালিকের সমান অধিকার রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ দুর্নীতিগ্রস্ত পরিদর্শক এবং কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, শ্রমের মালিক শ্রমিক, শ্রমিক শ্রম দেয় বলেই উৎপাদন হয়, এই শ্রমিকদের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থতার জন্য আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.