দেশে আজ থেকে জনশুমারি ও গৃহগণনা শুরু

১১ বছর পর আজ থেকে দেশে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ (১৫ -২১ জুন) সারা দেশজুড়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি এবার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই কার্যক্রম করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সর্বশেষ জনশুমারি করা হয়েছিল ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

সাধারণত প্রতি ১০ বছর পরপর বাংলাদেশে আদমশুমারি হয়ে থাকে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছর আদমশুমারি হতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে আদমশুমারি বলা হলেও এবার এই জরিপকে জনশুমারি বলে ডাকা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে যে আদমশুমারি বা জনশুমারিগুলো করা হয়েছে, সেগুলো কাগজে-কলমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার খুব বেশি ছিল না। কিন্তু এবার প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

উনিশশো চুয়াত্তর সাল থেকে শুরু করে এর আগে বাংলাদেশে পাঁচটি আদমশুমারি করা হয়েছে। উপমহাদেশের অন্যান্য দেশগুলোতেও প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়ে থাকে। এর মাঝে অবশ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অর্থসহ নানাখাতের জরিপ করে থাকে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম বা ওয়ার্ডে একজন করে তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করছেন। তারা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে সেখানে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য নেবেন। সেই সঙ্গে ওই বাড়ির অবস্থা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করবেন।

গণনায় সারাদেশের মানুষের কাছে ৩৫টি তথ্য জানতে চাইবেন তথ্য সংগ্রহকারীরা। অনেক জরিপ নমুনা বাছাই করে করলেও আদমশুমারি ও গৃহগণনায় সারা দেশের মানুষকে আওতাভুক্ত করছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

এজন্য সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের (কম্পিউটার) সাহায্যে সাত দিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

সেইসঙ্গে ৬৩ হাজার ৫৪৮ জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী কাজ করছেন।

এই ব্যক্তিরা মূলত তথ্য সংগ্রহের কাজ তদারকি করবেন। তবে আগে এসব তথ্য কাগজ-কলমে সংগ্রহ করার পর সেগুলো আবার নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিসংখ্যার ব্যুরোর প্রধান দপ্তরে নথিভুক্ত করতে হতো।

কিন্তু এবার ট্যাব ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে এসব তথ্য সংগ্রহ করায় তা তাৎক্ষণিকভাবেই বিবিএসের সার্ভারে জমা হচ্ছে।

একুশে জুন পর্যন্ত এভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। এরপর এসব তথ্য বিশ্লেষণের কাজ শুরু হবে।

আগামী তিনমাসের মধ্যেই তারা জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, ভারত উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ব্রিটিশ আমলে, ১৮৭২ সালে। পরের আদমশুমারি হয় ১৮৮১ সালে। এরপর থেকে এই উপমহাদেশে প্রতি ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

প্রতি ১০ বছর পরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালে না হয়ে একবছর পিছিয়ে যায়।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ২৩ লাখ। প্রতি ১০ বছরে অন্তত দুই কোটি জনসংখ্যা বাড়ে বলে ধারণা করা হয়।

দুই হাজার এগার সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের সীমান্ত এলাকায় আদমশুমারি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.