দেশকে আবারো বাঁচালো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র

রম্য সংবাদ : শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত থেকে সারাদেশকে বাঁচালো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর। এরআগে সিডর আইলাসহ সবগুলো ঘূর্ণিঝড় থেকে দেশকে বাঁচিয়েছিল এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে সেসময় ভিত্তিপ্রস্তর না থাকলেও বাগেরহাটের রামপালে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, এমন খবর শুনেই ঘূর্ণিঝড়গুলো তাদের মতিভ্রম ঘটিয়ে সাইডে কেটে পালিয়ে গিয়েছিল সেসময়। আর এবার স্বচোক্ষে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মহা নির্মাণযজ্ঞ দেখে ভয়ে পালিয়েছে মিস্টার বুলবুল।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সামনে সুন্দরবন উজাড় করে নির্মাণ হতে যাওয়া ১৩২০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর এতোটাই বুক টানটান করে দাঁড়িয়েছে যে ঘূর্ণিঝড়টি বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে পালিয়ে যায়। এসময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সামনে এসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এমন এক আচরণ করে যেনো সে গান গাইতে এসেছে। এসময় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গান ধরে- বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে, আয় না যা না গান শুনিয়েছে। ছো্ট্টবেলার এই গান শুনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে এবং তার ১৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সুন্দরবনকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে- আজ আমি না থাকলে তোমার কি বারোটাই না বাজতো। বিদ্যুৎকেন্দ্রের এহেন বক্তব্য শুনে সুন্দরবনের মধ্যে বসবাস করা রয়েল বেঙ্গেল টাইগারের ঘাড়ে বসে তাস খেলতে থাকা বানর ফিক করে হেসে বলে- এ আইছে!

পরবর্তিতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এমন অসামান্য অর্জন দেখে সরকার অতিদ্রুত সুন্দরবনের সব গাছ কেটে পুরো এলাকাতেই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সবশেষ খবরে জানা যায়, এই খুশিতে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করছে নির্মাণকারি প্রতিষ্ঠান। মিষ্টি বিতরণকালে প্রতিষ্ঠানটির হর্তাকর্তারা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেন, দেশেকে এই ধরণের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে সুন্দরবন টনের কোন দরকার নেই। আমরা আশাকরি আজকের ঘটনার তাৎপর্য অনুধাবন করে সরকার আরো আরো বিদুৎকেন্দ্র, কারখানা, ইটের ভাটা ইত্যাদি ইত্যাদি স্থাপনের অনুমতি দিবেন। এতে দেশও বাঁচলো দশও বাঁচলো।

লেখক- ফারহান হাবীব

“এই লেখাটির সঙ্গে বাস্তবের কোন কিছুর মিল পেলে তা সম্পুর্ণ কাকতালীয়”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.