‘দুষ্টুচক্র ভেঙ্গে সাধারণ কৃষকের পক্ষে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা পাওয়া অসম্ভব’

হাওরে ধান কাটার মেশিন নিয়ে কৃষকের চরম হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা- ৪ (মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদন) আসনে কাস্তে মার্কার প্রার্থী জলি তালুকদার বলেন, ‘আমি ধান কাটতে পারিনি, দুষ্টুচক্র ভেঙ্গে সাধারণ কৃষকের পক্ষে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা পাওয়া অসম্ভব।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে হাওরে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় বরাদ্দ করা ধান কাটার মেশিন নিয়ে দূর্নীতি এবং কৃষকের সীমাহীন হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে পাঁচ দিন চেষ্টা করেও সরকার নির্ধারিত দামে নিজের ধান কাটাতে সক্ষম হইনি। আমার অবস্থান বিচার করলে এটাই বলতে হয়, ব্যক্তিগতভাবে নিজে যে হয়রানির শিকার হয়েছি তাতে এই দুষ্টু চক্র ভেঙ্গে সাধারণ কৃষকের পক্ষে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার সুবিধা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’

বিবৃতিতে জলি তালুকদার বলেন, এবার ধানের দাম কিছুটা বেশি যাবে সবার এমন ধারনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে কৃষককে ছয়শত থেকে ছয়শত পঞ্চাশ টাকা মণপ্রতি ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায় হাওরে ধান কাটার জন্য যে মেশিন বরাদ্দ করা হয়েছে তার সুবিধা পেতে কৃষককে সীমাহীন হয়রানি ও বাড়তি অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের গ্রুপ বা সমিতি গঠন করে তার মাধ্যমে মেশিন বরাদ্দের বদলে নিলাম ডেকে পয়সাওয়ালা ও ক্ষমতাধরদের হাতে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার মেশিন তুলে দেয়ায় সাধারণ কৃষক এক জিম্মি দশায় পরেছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বছরখানেক আগে পিতার মৃত্যুরপর তার মা গ্রামে একা থাকেন, মায়ের খোরাকীর প্রয়োজনে ডিঙ্গাপোতা হাওরে এবছর নিজ তত্বাবধানে তিনি বোরো ধান চাষের উদ্যোগ নেন। করোনা মাহামারী পরিস্থিতি, পরিযায়ী শ্রমিকের সংকট এবং হাওরে আসন্ন পানি নিয়ে কৃষকের প্রতিদিনের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

বিবৃতিতে জলি তালুকদার দাবি জানান, বহু কষ্টে কৃষক যে ধান উৎপাদন করেছে তার লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, হাওরের ভৌগলিক বৈশিষ্ট ও ঋণ করে উৎপাদন খরচ যোগার করার কারনে কৃষক কাঁচা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগে কৃষকের ওপর যে শোষণ চলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র খোলা এবং খোদ কৃষকের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে ধান কিনতে হবে। তিনি বলেন, কৃষকের জন্য দেয়া রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার অর্থ থেকে তাদের বঞ্চিত করে ব্যক্তি বিশেষের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার দুষ্টু চক্র এখনই থামাতে হবে।