দুঃশাসন অবসানে গণআন্দোলনের পথ দেখাবে সিপিবির দ্বাদশ কংগ্রেস

আসন্ন দ্বাদশ কংগ্রেসে গভীর সংকটে নিমজ্জিত দেশ রক্ষায় উপযুক্ত ও আদর্শনিষ্ঠ নীতি এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়ে বাংলাদশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ভোটাধিকার আদায় ও দুঃশাসন অবসানে গণআন্দোলনের পথ দেখাবে সিপিবির দ্বাদশ কংগ্রেস।

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ বেলা ১২টায় মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়নে সিপিবির দ্বাদশ কংগ্রেস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আহ্বায়ক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, শাহীন রহমান, কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান শামীমসহ প্রস্তুতি কমিটির বিভিন্ন উপ-পরিষদের আহ্বায়কগণ।

কমরেড সেলিম বলেন, লুটেরা ধনবাদী ধারায় বাজার অর্থনীতিতে দেশ চলছে। শাসকশ্রেণি একচেটিয়া লুটপাট অব্যাহত রাখতে জোর করে ক্ষমতায় থাকার পথ অবলম্বন করছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক অবাধ লুটপাটের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২৫-২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ঢাকায় সিপিবি’র দ্বাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিপিবি’র কংগ্রেসে কেবলমাত্র নেতৃত্বই নির্বাচন হয় না, পার্টির নীতি ও রাজনৈতিক কৌশলও নির্ধারণ করা হয়। সিপিবি’র আসন্ন কংগ্রেস ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, দুঃশাসনের অবসান এবং জনজীবনের সংকট নিরসনে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে দিশা দেখাবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বিকল্প গড়ো’ এই স্লোগান ধারণ করে সিপিবি’র দ্বাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’, ‘সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধন’ এবং আওয়ামী, বিএনপি কেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার কাক্সিক্ষত প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান নিয়ে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইতিমধ্যে সারাদেশে পার্টির সকল শাখা, উপজেলা কমিটি এবং জেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কমিটিসমূহের সম্মেলনে ৪৮৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে সর্বমোট ২২৯ জন ভেটারেন কমরেডদের সংবর্ধনা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সকাল ১০টায় গুলিস্তানের কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) সারাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে কংগ্রেসের  উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী সমাবেশের পর বিকাল ৩টায় সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে এবং চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.