ত্রাণ ও রেশনের দাবিতে বরিশালে শত শ্রমিকের রিকশা মিছিল

ত্রাণ ও রেশনের দাবিতে বরিশালে শত শ্রমিকের রিকশা মিছিল

বরিশালে ত্রাণ ও রেশনসহ বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে রিকশা মিছিল করেছেন রিকশা চালক শ্রমিকরা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে এই মিছিল কর্মসূচি শুরু হয়।

লকডাউনে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য ১ মাসের খাদ্য ও নগদ ৫০০০ টাকা অর্থ বরাদ্দ, শ্রমিক নির্যাতন-হয়রানী বন্ধ ও বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্যাক্সিনের দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও এর শ্রমিক ফ্রন্ট এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আহ্বান করে।

প্রায় পাঁচ শতাধিক চালক রিকশা এই মিছিলে অংশ নেন।

মিছিলটি নগরীর সদর রোড, হাসপাতাল রোড, নথুল্লাবাদ আমতলা মোড় ঘুরে সিটি করপোরেশনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তারা স্লোগান দেন, খাবার না দিলে লকডাউন মানি না।

সমাবেশে বাসদ আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, শ্রমজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও অর্থ সহায়তা না দিয়ে কোনভাবেই লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব নয়। এবার লকডাউনে একদিকে শ্রমিকদের কোন আয়-রোজগার নাই, রাস্তায় নামতে পারছে না, অন্যদিকে এই রমজান মাসে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল জিনিসের দাম বেড়েছে। ফলে শ্রমজীবী, দরিদ্র-নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও সীমাহীন দু:খ-দুর্দশার মধ্যে অতিবাহিত করছে।

ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, এইটা ঠিক যে সারাদেশের মতো বরিশালে করোনা রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। ফলে লকডাউনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু লকডাউন দেয়ার আগে অবশ্যই গরীব-খেটে খাওয়া মানুষ যারা সারাদিন রোজগার করে সন্ধ্যায় বাজার করে ঘরে ফেরে তাদের অন্তত ১ মাসের খাবার এবং নগদ ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এই সহযোগিতা ছাড়া এই পরিবারগুলো না খেয়ে উপোষ করবে এমনকি রমজানে সেহরি ইফতারও করতে পারবে না। তাই কাল বিলম্ব না করে এই শ্রমজীবী দরিদ্র পরিবারের তালিকা করে তাদের খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতে শ্রমিকদের যে হয়রানি-নির্যাতন করা সেটাও বন্ধ করতে হবে।

বাসদ আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার, বরিশাল রিক্সা ভ্যানচালক শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩২৪) সভাপতি দুলাল মল্লিক, মো. জব্বার, শহীদুল ইসলাম, মো. কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিজন শিকদার প্রমুখ।

Leave a Reply